
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ নিজের দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠল রাজ্যের খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডির ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে ফের প্রকাশ্যে এলো শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রবিবার ব্লকে ব্লকে ধর্না কর্মসূচি পালন করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কর্মসূচি ঘিরেও শাসকের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে রাজ্যের মন্ত্রীর সামনেই রীতিমতো মারামারি হল বাঁকুড়া জেলার খাতড়ায়। সেখানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে দলের ব্লক সভাপতি সহ বেশ কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ উঠল রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তিন জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

খোদ তৃণমূলের খাতড়া ব্লক সভাপতিকে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ মঞ্চ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে হুমকী দেয়।তিনি চেয়ার ছাড়ার সাথে,সাথে, তার অনুগামীদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু হয়ে যায়।অবস্থা বেগতিক দেখে মার খাওয়ার আশঙ্কায় ষাটোর্ধ ব্লক সভাপতি সুব্রত মহাপ্রাত্র ছুটে পালাতে গেলে, তাকে তাড়া করে রাস্তার ওপর ফেলে বেধড়ক পেটানো হয়। আক্রান্ত হন সুব্রত বাবুর অনুগামী এক মহিলা নেত্রী সহ কয়েকজন। খাতড়ার করালি মোড়ে রীতিমতমঞ্চ বেঁধে বেলা ১২টা নাগাদ শুরু হয় ধর্না। অভিযোগ, বেলা আড়াইটার আশপাশে জ্যোৎস্না মান্ডির ঘনিষ্ঠ কিছু তৃণমূল কর্মী আচমকাই ধর্না মঞ্চে চড়াও হয়। আক্রান্ত হতে পারেন বুঝতে পেরেই মঞ্চ ছেড়ে পাশের গলি দিয়ে ছুটে পালানোর চেষ্টা করেন তৃনমূলের খাতড়া ব্লকের সভাপতি সুব্রত মহাপাত্র। অভিযোগ হামলাকারীরা ব্লক সভাপতি সুব্রত মহাপাত্রকে তাড়া করে গলির ভেতরে ঢুকে রাস্তায় ফেলে মারধর করতে শুরু করে। আক্রান্ত হন সুব্রত মহাপাত্র ঘনিষ্ঠ আরও দুজন। পরে আহতদের উদ্ধার করে খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।খাতড়ায় স্থানীয় বিধায়ক ও মন্ত্রী জ্যোৎস্না মাণ্ডি গোষ্ঠীর সঙ্গে ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুব্রত মহাপাত্র গোষ্ঠীর বিরোধ দীর্ঘদিনের। এদিন সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ চরমে ওঠে। তবে দলীয় ধরনা মঞ্চে এই মারধরের ঘটনার খবরে তৃণমৃলের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আহত ব্লক সভাপতির দাবি, সম্প্রতি খাতড়া ব্লকের অঞ্চল সভাপতিদের নাম ঘোষণা নিয়েই মন্ত্রী ঘনিষ্ঠদের সাথে তাঁর দ্বন্দের সূত্রপাত। তার জেরেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়েছে। গোটা ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
