
মুর্শিদাবাদ, ২৪ জুলাই : মুর্শিদাবাদে পঞ্চায়েত ভোট পরবর্তী সময়েও রাজনৈতিক হিংসা যেন থামছেই না। রোজই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জড়িয়ে পড়ছে সংঘর্ষে। এবার কংগ্রেস ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে বোমাবাজিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রানিনগরের ডেপুটিপাড়া।রবিবার রাতে বোমাবাজিতে হাত-পা উড়ল কংগ্রেস কর্মীর। আহত হয় আরও একজন।
কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরাই কংগ্রেস সমর্থকের বাড়ি লক্ষ্য করে রবিবার রাতে বোমাবাজি চালায়, চলে গুলিও। এই ঘটনায় কংগ্রেস কর্মী রেন্টু শেখ গুরুতর জখম হয়েছে। তাঁর হাত ও পা গুরুতরভাবে জখম।
জানা গিয়েছে, রেন্টু শেখ বোমা নিয়ে দৌড়নোর সময় তা ফেটে জখম যায়। আর তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কংগ্রেসের কর্মীরাই বোমাবাজি করেছে। এতে জখম আততারি মণ্ডল নামে এক তৃণমূল কর্মীও। এনিয়ে রাতে ব্যাপক উত্তেজনা হয় ডেপুটিপাড়ায়।
ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জখমদের রানিনগরের গোধনপাড়া ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে।
সূত্রের খবর, কংগ্রেস সমর্থক রেন্টু শেখের অবস্থা শোচনীয়। সোমবার সকলের খবর মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। জখম রেন্টু শেখের স্ত্রী ইতিনা বিবির বক্তব্য, “ভোটে এলাকায় কংগ্রেস-সিপিএম জোট প্রার্থীর জয় হওয়ার পর থেকেই বাড়ির সামনে তৃণমূলের লোকেরা আড্ডা মারে। আজ হঠাৎ করেই রাতের বেলায় বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি করে ও গুলি করেছে। তাতেই আমার স্বামী জখম হয়েছে।”
যদিও তৃণমূলের রানিনগর ২ ব্লকের সভাপতি শাহ আলম সরকার জানান, “রাস্তার ধারে বাড়ি। গরমে পাড়ার লোকজন মাচানে বসে থাকে। কিন্তু কংগ্রেসের ওই সব বাড়ির লোকজন ভোটে জেতার পর থেকেই তৃণমূলের লোকেদের লক্ষ্য করে গালমন্দ করে। শনিবারও করেছে। এর প্রতিবাদ করলে রেন্টু শেখের ভাইপো প্রথমে বোমা মারে। তাতেই আততারী মণ্ডল জখম হয়। ঘটনায় লোকজন পালাতে থাকে। ওই সময় আবার বোমা নিয়ে দৌড়াবার সময় পড়ে গিয়ে নিজের বোমা ফেটে রেন্টু শেখ জখম হয়। তৃণমূলের চেউ বোমা মারেনি।”
কংগ্রেস নেতৃত্ব জাহাঙ্গীর ফকিরের অবশ্য দাবি, “ ওই অভিযোগ ঠিক নয়। ঘটনার সময় রেন্টু শেখ মসজিদে নমাজ পড়ে বাড়ি যাচ্ছিল। তখনই তাকে বোমা মারা হয়েছে। যার জেরে তার বাম হাত ও বাম পায়ের জঙ্ঘা জখম হয়েছে।”
