West Bengal

3 years ago

Amal Kumar Roychowdhury: বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অমল কুমার রায়চৌধুরীকে স্মরণ

Amal Kumar Roychowdhury
Amal Kumar Roychowdhury

 

কলকাতা, ১৫ মার্চ : বিশ্ববিশ্রুত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং-রজার পেনরোজের অন্যতম মূল ভিত্তি যে 'রায়চৌধুরী সমীকরণ', আজ অনেকেরই সে কথা জানা নেই। সেই 'রায়চৌধুরী' যে কলকাতার মানুষ ছিলেন, প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়েছেন ও পড়িয়েছেন এ কথা আমরা অনেকেই জানিনা। বুধবার তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে ঐতিহ্যের ওই প্রতিষ্ঠানে।

সাদামাটা পাঞ্জাবি পাজামা পরিহিত অমল কুমার রায়চৌধুরী পদার্থবিদ্যার পাশাপাশি শিখিয়েছিলেন বিজ্ঞানচর্চার জন্য ঝাঁ চকচকে পরিকাঠামোর থেকে ঢের বেশি জরুরী বিজ্ঞানমনস্কতা, বিজ্ঞান চর্চা-মনন-অনুশীলনের বিস্তৃত পরিসর। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু-আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়-সত্যেন্দ্রনাথ বসু-মেঘনাদ সাহা-নিখিলরঞ্জন সেন-সহ বাংলার বিজ্ঞানচর্চার ধারাবাহিকতার প্রতিনিধি অধ্যাপক অমল কুমার রায়চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ এবছর।

সেই উপলক্ষে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব বিকেলে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কে বসাক অডিটরিয়ামে আয়োজন করছে বিশেষ সেমিনার— ‘এ জার্নি টু দি সেন্টার অফ অ্যান ইনভিসিবল ওয়ার্ল্ড’। বক্তব্য রাখবেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স-এর অমল কুমার রায়চৌধুরী চেয়ার প্রফেসর সৌমিত্র সেনগুপ্ত।

অমলবাবু ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের বর্তমান বাংলাদেশের বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সুরেশচন্দ্র রায়চৌধুরী একজন স্কুলশিক্ষক ছিলেন, তিনি ছিলেন গণিতের শিক্ষক। বাবাকে দেখে অণুপ্রাণিত হয়েই ছোটবেলা থেকেই অমল গণিত বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন, গণিতের সমস্যা সমাধান করতে ভালবাসতেন। ১৯৪২ সালে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক এবং ১৯৪৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

এরপর তিনি ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর কাল্টিভেশন অব সায়েন্সেসে যোগ দেন। কিন্তু দীর্ঘ চার বছর গবেষণা করেও কোন তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল বের করতে না পেরে তিনি বেশ হতাশ হয়ে পড়েন। সে সময় তিনি আশুতোষ কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। সে সময় অধ্যাপক নিখিলরঞ্জন সেন সেখানে আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব পড়াতেন। অমল অধ্যাপক সেনের সান্নিধ্যে আপেক্ষিকতা তত্ত্ব শিখতে শুরু করেন এবং তাঁর সাহায্যেই প্রথম কয়েকটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন।

পরের দিকে তিনি একা একাই গবেষণা চালিয়ে যেতে থাকেন। গবেষণার এই পর্যায়ে এসেই তিনি তার বিখ্যাত সমীকরণটি আবিষ্কার করেন। কাছাকাছি সময়েই তিনি আইএসিএস-এ দ্বিতীয় দফায় গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

অমল কুমার রায়চৌধুরী তাঁর সমীকরণটি ১৯৫৩ সালে বের করলেও এটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করার জন্য তাকে দু’বছর অপেক্ষা করতে হয়। ১৯৫৫ সালে তার গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় বিখ্যাত জার্নাল ফিজিক্যাল রিভিউ –তে। এই গবেষণা প্রবন্ধের হাত ধরেই অমল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তখনও কিন্তু তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেননি। তাঁর পিএইচডি হয় ১৯৫৯ সালে।

একজন মেধাবী বিজ্ঞানী হবার পাশাপাশি অমল কুমার রায়চৌধুরী একজন প্রাণবন্ত শিক্ষকও ছিলেন। মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে তাঁর শেষ গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়। বই পড়তে ভালবাসতেন, ছিলেন রবীন্দ্রসংগীতের ভক্ত। রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ রাখতেন, প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ না করলেও বিভিন্ন প্রবন্ধে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শের কথা উল্লেখ করেছেন।

You might also like!