
বোলপুর, ৯ জানুয়ারি : ৭জন পড়ুয়া ও ১জন অধ্যাপকের সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবিতে বিশ্বভারতীতে শুরু হওয়া আন্দোলন বিক্ষোভ অব্যাহত । সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ ঘন্টা বনধের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। সেই সঙ্গে তোলা হয়েছে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর পদত্যাগের দাবিও।
এদিন সকাল থেকে আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা বিশ্বভারতীর বিভিন্ন ভবনে গিয়ে সাধারণ পড়ুয়াদের ক্লাস না করার আবেদন করে। সেই আবেদনে অনেকেই সাড়া দিয়েছে। সব ক’টি ভবন বন্ধ না হলেও, বেশ কয়েকটি ভবনে ইতিমধ্যেই পঠনপাঠনে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কয়েকটি বিভাগে এদিন ইন্টারনাল পরীক্ষা ছিল। সাধারণ পড়ুয়াদের একাংশকে সেই পরীক্ষা বয়কট করতেও বলা হয় আন্দোলনকারীদের তরফে। তাতে সায় দেন বেশিরভাগ পড়ুয়ারাই। যারা সায় দেননি তাঁদের এই পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। এদিনও বিক্ষোভকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অবিলম্বে নিঃস্বার্থ ভাবে ৭জন পড়ুয়া ও ১জন অধ্যাপকের সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে হবে। সেই সঙ্গে যে ভাবে অধ্যাপকদের শোকজ করা হচ্ছে, তাও বন্ধ করতে হবে। পদত্যাগ করতে হবে উপাচার্যকেও।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৩ নভেম্বর বেশ কয়েকটি দাবিতে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সঙ্গে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কথা বলতে যান কিছু পড়ুয়া। কিন্তু সেদিন নিরাপত্তারক্ষীরা ঢুকতে বাধা দিলে পড়ুয়াদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের হাতাহাতি বেধে যায়। এর পরেই পড়ুয়াদের হাতে ঘেরাও হন উপাচার্য। প্রায় ১০ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশের সাহায্যে উপাচার্যকে মুক্ত করা হয়। সেই বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্যও। তিনি পড়ুয়াদের বিক্ষোভে উস্কানি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলেন কর্তৃপক্ষ। উপাচার্যকে বাংলোতে বন্দি রেখে পড়ুয়ারা আন্দোলন চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়। ওই ঘটনায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ গত ডিসেম্বর মাসে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে অধ্যাপক সুদীপ্তকে বরখাস্ত ও ৭ জন পড়ুয়াকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার বিরুদ্ধেই সম্প্রতি আন্দোলনে নামেন বিশ্বভারতীর পড়ুয়াদের একাংশ।
