
কলকাতা, ১৭ আগস্ট : ছাত্রমৃত্যুর তদন্তে যাদবপুরের রিপোর্টে তীব্র অসন্তোষ দেখাল ইউজিসি-র। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ১২ দফা প্রশ্ন-সহ কড়া ইমেল পাঠিয়েছে তারা। ইউজিসি-র বিধি না মানা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ তারিখ যাদবপুরে গিয়ে রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু জানিয়েছিলেন, যাদবপুরের প্রাথমিক রিপোর্টে সন্তুষ্ট ইউজিসি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের প্রতিনিধিদলের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কথা থাকলেও, তারা আসছেন না জানিয়ে রিপোর্টে সন্তুষ্ট হওয়ার কথাই জানিয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষামহলের আশঙ্কা, উত্তর যদি সন্তোষজনক না হয় তাহলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থের পরিমাণে কাটছাঁট করতে পারে ইউজিসি। সাময়িকভাবে তা বন্ধ করে দেওয়াও হতে পারে।
যদিও জানা যাচ্ছে, 'মৃত্যুর আগে পড়ুয়াকে কী পদ্ধতিতে হস্টেলের রুম বরাদ্দ করা হয়েছিল? অ্যান্টি র্যাগিংয়ের নম্বর, থানার নম্বর পড়ুয়াদের দেওয়া হয়েছিল? নতুন পড়ুয়াদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল? হস্টেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনও প্রতিনিধি ছিলেন?' এই ধরনের ১২ দফায় প্রশ্নের জবাব চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ইমেল করেছে ইউজিসি। নতুন ছাত্রদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে করা সার্ভে রিপোর্টও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ছাত্রমৃত্যুর পর থেকে বারবার আতসকাচের নিচে এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা। তাদের একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে যেন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই প্রশ্ন উঠেছে একাধিক বিষয়ে ভূমিকা না নেওয়া ঘিরে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তাদের ভূমিকা নিয়ে ইউজিসি সন্তুষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি এর পরে প্রত্যেক পদক্ষেপে কীভাবে এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়, সেটা জানাতে বলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পক্ষ থেকে। যদিও ছাত্রমৃত্যুর তদন্ত ঘিরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপে যে ইউজিসি বেশ অসন্তুষ্ট, সেটাই বুঝিয়ে কড়া ইমেল পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকারের মতে, 'র্যাগিং নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে চিঠি ইউজিসিকে পাঠিয়েছে তা সন্তোষজনক নয়। এ নিয়ে যাদবপুরকে চিঠিও পাঠিয়েছে ইউজিসি', যে ১০টি পয়েন্টে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় উত্তর দিয়েছে, তা যথেষ্ট নয়।
