
অনিরুদ্ধ সরকার,বাঁকুড়া: সম্মতি ডিভোর্স মামলায় বাঁকুড়া জেলা আদালতে হাজির হলেন সাংসদ সৌমিত্র ও তাঁর স্ত্রী সুজাতা। এর আগে দুজনেই পৃথক পৃথক ভাবে আদালতে হাজির হয়ে মিউচুয়াল ডিভোর্সের মামলা দায়ের করেন। সোমবার প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুজনের উপস্থিতিতে চলে শুনানি। বাঁকুড়া জেলা আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা বিচারক প্রশান্ত মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে এদিন তাদের মিউচুয়াল ডিভোর্সের শুনানি হয়। সুজাতা খাঁ জানিয়েছেন এই ডিভোর্সের মামলায় তাঁর কোনও দাবি দাওয়া নেই। বিষয়টি বিচারাধীন। আদালত চাইলে দ্রুত এই মামলার নিস্পত্তি হবে। সৌমিত্র খাঁ বিষয়টিকে 'ব্যাক্তিগত বিষয়' বলে এড়িয়ে যান। তাঁর আইনজীবী জানান, মামলাটি দ্রুত নিস্পত্তির জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। আজ তারই শুনানি হয়েছে। আদালত দুপক্ষের কাছেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে জানতে চায়। এদিন দুপক্ষই ডিভোর্সের ব্যাপারে আদালতের কাছে তাঁদের সম্মতির কথা জানিয়েছে।
বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ২০১৬ সালের ১লা জুলাই সুজাতা মণ্ডলকে বিয়ে করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, স্ত্রী সুজাতার প্রচারে ভর করেই ওই লোকসভা নির্বাচনে ভোট বৈতরনী পার করেন সৌমিত্র। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর কিছুদিন পর থেকেই উভয়ের মধ্যে শুরু হয় সম্পর্কের টানাপোড়েন। স্বামীকে ছেড়ে পৃথক থাকতে শুরু করেন সুজাতা।
পরে ২০২০-র ডিসেম্বরে তৃণমূলে যোগ দেন সুজাতা। ওইদিনই সংবাদমাধ্যমে সুজাতার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার কথা জানান সৌমিত্র। এরপর আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সৌমিত্র স্ত্রীর সঙ্গে পাকাপাকিভাবে সম্পর্ক ছেদের জন্য ডিভোর্স মামলা দায়ের করেন। সেই মামলারই অঙ্গ হিসাবে সোমবার মিউচুয়াল ডিভোর্সের শুনানি হল।
এদিন লাল পাড় সাদা শাড়ি, চোখে সানগ্লাস আর কপালে এক খানা বড় টিপ পরে আদালতে আসেন সৌমিত্রর স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল। আদালত থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, "আমরা ভারতীয় বিচার ব্যবস্থা ও আদালতকে সম্মান করি। আদালতের তরফে ডেকে পাঠানো হয়েছিল, তাই এখানে আসা। দু’পক্ষের আইনজীবিদের উপস্থিতিতেই বিচারক কথা বলেছেন।" একই সঙ্গে ডিভোর্স নিয়ে তাঁর কি কোন 'ডিমাণ্ড' আছে? এই প্রশ্নের উত্তরে সুজাতা বলেন, "আই হ্যাভ নো ডিমাণ্ড।
