
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ সোমবার থেকেই হাই কোর্টের বিচারপতি মান্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আইনজীবীদের একাংশ, মঙ্গলবার ও লাগাতার চলতে থাকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি, অথচ, এই মুহূর্তে বিচারপতি মান্থার বিচারাধীন রাজ্যের বেশ কয়েকটি মামলা। তার অনেকগুলি আবার বেশ গুরুত্বপূর্ণও। এই পরিস্থিতিতে আদালত চত্বরে বিচারপতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোয় সোমবার ৪০০টি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া থমকে যায়। কারণ ১০০টি মামলার আইনজীবীই এসে পৌঁছননি বিচারপতির এজলাসে। মঙ্গলবারও প্রায় একই অবস্থা হয়।
এই পরিপ্রক্ষিতে এবার বিচারপতি মান্থা আদালতের কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ এনেছেন। শুধু তাই নয় বিক্ষোভকারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করছেন তিনি, এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আদালতের অবমাননার রুলও জারি করেছেন বিচারপতি মান্থা। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দায়ের করা এই মামলাটির শুনানি হবে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চে।
উল্লেখ্য, সোমবার বিচারপতির বিরুদ্ধে আইনজীবীদের বিক্ষোভ একটা সময়ে হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয়। পাশাপাশি তাঁর নামে পোস্টারও পড়ে। সেই পোস্টারের বক্তব্য ছিল— ‘‘বিচারপতি মান্থা বিচার প্রক্রিয়ার কলঙ্ক।’’ যদিও কেন এই অভিযোগ তা স্পষ্ট নয় পোস্টারে। কারা সেই পোস্টার ফেলেছিল জানা যায়নি তা-ও। এর পরে মঙ্গলবার আইনজীবীদের সংগঠন বার অ্যাসোসিয়েশনের বেশ কয়েক জন সদস্য বিচারপতি মান্থার এজলাস বয়কটেরও ডাক দেয় । একটি প্রস্তাব এনে বিচারপতির এজলাস না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। যা নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে হাই কোর্ট চত্বরের উত্তাপ বাড়তে থাকে।
প্রসঙ্গত, আইনজীবিদের একাংশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার প্রস্তাব দেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, সপ্তাংশু বসুর মতো আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, ‘‘যা হচ্ছে তা ভাল হচ্ছে না। বিষয়টি নিন্দনীয়। এ ব্যাপারে অদালত অবমাননা রুল জারি করে বিক্ষোভকারীদের কাছে জবাব চাওয়া উচিত।’’
সোমবারেরে পর যখন মঙ্গলবার ও কোর্ট চত্বরের পরিস্থিতির উন্নতিতে কোনোরূপ উন্নতি না হওয়ায়, এজলাসের বাইরে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেন বিচারপতি মান্থা, বলেন, কেউ যেন তাঁর এজলাসে ঢুকতে বাধা না পান। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। এর পরই বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন বিচারপতি মান্থা।
উল্লেখ্য, বিচারপতি মান্থার এজলাস বয়কটের ঘটনায় প্রধান বিচারপতির কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।
