
কলকাতা, ১২ জানুয়ারি : ‘দিদির দূত’ প্রকল্পকে কটাক্ষ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "দিদির দূত কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দিদির দূতেরা গেলে ভগ্নদূত হয়ে ফিরবেন। মন্ত্রী গেলে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করছেন গ্রামবাসীরা। কোথাও কোনও দিদির দূতের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর দিদির দূতেরা গেলে ভগ্নদূত হয়ে ফিরবেন।“
প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত ভোটের আগে কর্মসূচির টক্কর। 'দিদির সুরক্ষা কবচ' নিয়ে ময়দানে তৃণমূল। পঞ্চায়েত নির্বাচন মানে গ্রামবাংলার ভোট। সেই পরীক্ষায় পাস করতে, এবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তৃণমূল। বাংলার গর্ব মমতা, বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়-এর পরে শুরু হয়েছে দিদির সুরক্ষাকবচ কর্মসূচি। ১১ জানুয়ারি থেকেই এই কর্মসূচি নিয়ে পথে নেমেছে তৃণমূল।
ঠিক হয়েছে, ১৫টি সরকারি প্রকল্পের প্রচারে, বাংলার ১০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবেন দিদির দূতেরা। শহর থেকে গ্রাম রাজ্য সরকারের ১৫টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা সবাই পাচ্ছেন কি না, তা জানতে দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাবেন তৃণমূলের জন প্রতিনিধিরা। স্থানীয় মানুষদের কাছে তাঁরা জানতে চাইবেন প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি-অভাব-অভিযোগের কথা।
কর্মসূচির মধ্যে থাকছে, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাঁদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের বিষয়টিও। এর পাশাপাশি তৃণমূলের জন প্রতিনিধিরা স্থানীয় অফিস, হাসপাতাল-সহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি পরিদর্শন করবেন। আলোচনা হবে স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধান এবং পঞ্চায়েতের সদস্যদের সঙ্গে। দিনের শেষে তাঁরা দলেরই কোনও কর্মীর বাড়িতে নৈশভোজ এবং রাত্রিযাপন করবেন। কর্মসূচির পরবর্তী ধাপে দিদির দূতরা পৌঁছে যাবেন বাড়ি বাড়ি।
এর আগে দিদির দূত কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, 'দিল্লির দূতরা এখন বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে। ব্যাঙ্ক, বিডিও অফিসেও পৌঁছে যাচ্ছে দিল্লির দূত। সেই ভয়ে তৃণমূলের নেতারা থরহরিকম্প। মানুষ শীতে কাঁপছে, তৃণমূল সিবিআইয়ের ভয়ে কাঁপছে। দিদির সুরক্ষাকবচ এখন তৃণমূলের নেতাদের লাগবে।' অন্যদিকে, পাল্টা কটাক্ষ করে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, “আমাদের হচ্ছে দিদির দূত আর মোদীর যমদূত।''
