
কলকাতা, ১৪ আগস্ট : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রর মৃত্যুতে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। র্যাগিং থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি, শৃঙ্খলারক্ষা এবং হস্টেল রহস্য! সব ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ-পরোক্ষে অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ধৃত দুই পড়ুয়া এবং এক প্রাক্তন ছাত্র নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করলেও তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগের তির থেকে বাদ যাননি ‘ডিন অফ স্টুডেন্টস্’ রজত রায়ও।
রজতবাবুর পালটা প্রশ্ন, কেন ছাত্রমৃত্যুতে বারবার উঠে আসছে তাঁর কথা? কেন গাফিলতির অভিযোগে বিদ্ধ হচ্ছেন শুধু তিনিই? তাঁর সাফাই, “সেদিন (বুধবার) রাতে আমি একটি ফোন পাই। রাত ১০টা ৫ নাগাদ। আমি ওই ছাত্রকে বলি (যে ফোন করেন) আমাকে জানিয়েছ ঠিক আছে, তুমি হস্টেল সুপারকেও বলো। আমি নিজেই ১০টা ৮ নাগাদ হস্টেল সুপারের সঙ্গে কথা বলি। তিনি তেমন কিছু জানাননি এরপর। এমনকী আমাকে আর কিছু জানানো হয়নি। এরপর আমি যখন শুনলাম এই ঘটনা ঘটেছে। সঙ্গে সঙ্গে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে পৌঁছযই ওই রাতেই। একটুও দেরি করিনি। নিজেই গাড়ি চালিয়ে গিয়েছি।”
রজতবাবুর সাফাই, “ওই ছাত্রের মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক। এর জন্য সত্যিই আক্ষেপ হচ্ছে। আমি অনুতপ্ত। কিন্তু এর জন্য গাফিলতির দায় আমার উপরেই ঠেলে কেন দেওয়া হবে? সেই সময় হস্টেল সুপার কী করছিলেন? তিনি কেন ঘটনাস্থলে গেলেন না? তিনি যদি সেটা করে আমাকে জানাতেন তাহলে তো আমি তখনই যেতে পারতাম ওখানে! কিছু বলা হয়নি আমাকে।
কিন্তু আমাকে সব কিছুর দায় দেওয়া হচ্ছে! আমার ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। সব দায় আমার? কর্তৃপক্ষ, অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি তো রয়েছে। বারবার এসব নিয়ে প্রচার চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে। তারা ব্যবস্থা নেয় সব ক্ষেত্রেই! কিন্তু সব কিছুতে আমাকেই দোষী করা হচ্ছে কেন এখন! বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি নেই, কেন নেই? প্রশ্ন তুলবেন না? এটাও আমার দোষ!
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার নয়। আমার অধীনে তো সবটা নয়, নিরাপত্তারক্ষীরা দেখেন। আরও নানা ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁদের নিয়ন্ত্রণ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার, সহ-উপাচার্যের উপর। কিন্তু আমি বলছি, যতবার আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নিয়ে কিছু পদক্ষেপ করতে গিয়েছি, কিছু বলেছি, বারবার সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। যখনই কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভেবেছি, আমাকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। নানা বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। সম্প্রতি, সল্টলেক ক্যাম্পাসে গিয়েও এই অবস্থার শিকার হয়েছি।
কিন্তু এই ঘটনার (স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর মৃত্যু) আসল কারণ জানি না। বিচারাধীন বিষয়। তবে বলব, র্যাগিং অন্যায়। যারা করছে তারা তো বটেই, যারা অপরাধীদের সাহায্য করে তারাও অপরাধী বলে আমি মনে করি। আমি হস্টেল থেকে আগেও ছোটখাটো একাধিক অভিযোগ পেয়েছি, সেগুলো র্যাগিংয়ের নয়। অনেকবার ফোন এসেছে। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও কোনও সময় আমার বিরুদ্ধেই একাংশ সরব হয়েছেন। আমাকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা হয়েছে। আমি একাধিকবার এরকম ফোন পাই। হস্টেলে গন্ডগোল হচ্ছে। মিটিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু র্যাগিং বা এই জাতীয় কোনও ঘটনার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে, নানা ইস্যুতে সমস্যার মুখোমুখিও হয়েছি।
রজতবাবু নিজেকে যতই সাধু প্রমাণের চেষ্টা করুন, তিনি প্রথম ফোন পেয়েছিলেন বুধবার রাত নটা দশে। প্রশ্ন উঠছে, অন্য কাউকে দেখতে বলার পাশাপাশি কেন নিজেই অকুস্থলে চলে গেলেন না? কেন আবাসনে দিনের পর দিন নবাগত পড়ুয়াদের রাখা হচ্ছো পুরনো, এমনকি উত্তীর্ণ আবাসিকদের সঙ্গে? বেআইনি আবাসিক কতজন ঢুকছে, তা জানতে কতগুলো অভিযান করাতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি? হলে সেগুলোর প্রমাণ কী? নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় তাঁর যে দায়িত্বের ব্যাপারে বাড়তি সতর্ক থাকা দরকার, সেটা কী তিনি বোঝেন না?
