
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ হাওড়া নিয়ে রাজ্যপাল ডঃ সিভি আনন্দ বোসের বিশেষ সেল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। শাসক শিবিরের একটি অংশ একে ‘পৃথক প্রশাসন’ চালানোর ইঙ্গিত বলে ব্যাখ্যা করছে। তৃণমূলের প্রশ্ন, আদৌ কি এমন সেল গঠনের বৈধ ক্ষমতা রয়েছে রাজ্যপালের? দলের মুখপাত্র তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ শনিবার বলেন, ‘‘এই ভাবে বিশেষ সেল গঠনের কোনও বৈধ সংস্থান নেই আইনে। রাজ্যপাল তো রাজ্য প্রশাসনকে নিয়েই কাজ করেন। তবে তিনি যে সেল গঠন করেছেন সেটা মৌখিক না কি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সেটা দেখতে হবে।’’
একই সঙ্গে কুণালের আশঙ্কা, ‘‘রাজ্যপাল সংবাদমাধ্যম বা অন্য কোনও বেসরকারি সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। সেটা যদি হয় তবে সেই রিপোর্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।’’যার পাল্টা রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তথা কেন্দ্রের শাসক বিজেপি বলছে, রাজ্যের সব মানুষের মানবাধিকার রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্ব যাঁর কাঁধে, তিনি এমন উদ্যোগ নিতেই পারেন। তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, ‘‘রাজ্যপাল সংবিধানের রক্ষাকর্তা। মানুষের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারগুলি রক্ষা হচ্ছে কি না, সেটা দেখার দায়িত্ব রাজ্যপালের। তিনি প্রয়োজনে বিশেষ সেল গঠন করতে পারেন। নিজে অকুস্থলে চলে যেতে পারেন। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে রিপোর্টও তলব করতে পারেন।’’
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের মতো ‘উত্তাল’ সময়েও রাজভবনের তরফ সকলকে বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে এমন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। ‘কড়া’ রাজ্যপাল হিসাবে পরিচিত বর্তমান উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকরের সময়েও রাজ্যে অনেক সময় বিভিন্ন এলাকায় অনভিপ্রেত সংঘাতের ঘটনা দেখা গিয়েছে। বার বার ‘অতিতৎপর’ অভিযোগে অভিযুক্ত ধনখড় বিভিন্ন সময়ে কড়া ভাষায় নবান্নের সমালোচনা করেছেন, আইনজীবী হিসাবে কখনও আইনের ধারাও উল্লেখ করেছেন। কিন্তু কোনও বিশেষ এলাকার জন্য ‘বিশেষ সেল’ গঠন করেননি। যা করেছেন প্রাক্তন আইএএস আনন্দ বোস।
