
কলকাতা, ৯ জানুয়ারি : ‘‘আপনাদের দেশ, আমাদের দেশ বলে আমি বিভেদ করি না। গোটা বিশ্বই আমার মাতৃভূমি। আপনারা যখন এখানে এসেছেন, তখন এই বাংলা আপনারও। এত বড় একটা সম্মেলনের আয়োজন করতে পেরে, এই মঞ্চে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য।” সোমবার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে কলকাতায় জি-২০ বৈঠকের সূচনায় এই ভাষাতেই দেশ এবং বিদেশের আগত অতিথিদের অভ্যর্থনা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার পর্যন্ত চলবে জি-২০ সম্মেলনের বৈঠক। বৈঠকে ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের পশ্চিমবঙ্গে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রথম বক্তব্যেই তাঁর গলায় বসুধৈব কুটুম্বকমের সুর। তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি আপনারা আমাদের পরিবারের সদস্যের মতোই। আমি দেশে দেশে বিভেদে বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি, গোটা বিশ্ব আমার মাতৃভূমি। যারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে এসেছেন আপনাদের খোলা মনে স্বাগত জানাচ্ছি। বাংলার মাটিকে নিজের বলেই ভাবুন। ’’
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ১৫ মিনিটের কিছু বেশি সময় বক্তৃতা করেন। সেখানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামোর কথা তুলে ধরেন। বাংলা যে এই মুহূর্তে গোটা দেশের উন্নয়নের মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে, তাও জানান তিনি।
নারীশিক্ষায় রাজ্য সরকারের উল্লেখযোগ্য প্রকল্প ‘কন্যাশ্রী’ আগেই বিশ্ব মঞ্চে সম্মানিত হয়েছে। পেয়েছে আন্তর্জাতিক পুরস্কার। সে কথা উল্লেখ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া ঘরে ঘরে জনপরিষেবা পৌঁছে দিতে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প পেয়েছে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। জনতার উন্নয়নই যে তাঁর সরকারের একমাত্র লক্ষ্য, জি-২০ সম্মেলনের অতিথিদের কাছে তা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
