
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশ মুক্ত কৃষি নির্ভর দেশ। ওই দেশের কৃষির বিকাশের অন্যতম কারণ পশ্চিমবঙ্গের মতো বাংলা দেশও নদীমাত্রিক দেশ। কিন্তু আধুনিকতার নামে, শিল্পায়নের নামে পশ্চিমবঙ্গের মতো বাংলা দেশেরও নদী ভরাট,অপরিকল্পিত নদীবাঁধ বহু ছোট বড়ো নদীকে নষ্ট করে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে 'নদীরক্ষা কমিটি'র নামে দেশের পরিবেশবিদেরা আন্দোলন শুরু করেছেন।
বুধবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর রাজবাড়ি সড়কে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন। সেই আন্দোলনে ব্যাপক ভিড় হয়েছিল।
বাংলাদেশ অত্যন্ত দ্রুত নিজেদের উন্নত করে চলেছে।এমনকি বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের এই দ্রুত প্রসার চিহ্নিত হয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ পর্যন্ত প্রশংসা করেছে। এই অবস্থাতেই বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার সাদত, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আলম, যুগ্ম সম্পাদক মো. শহিদুল্লাহ, জীববৈচিত্র্য সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হাসিবুর রহমান ও সংগঠনের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ বিপ্লব। সকলের বক্তব্যের মূল নির্যাস হলো,নদীপথকে আটকানো যাবে না। নদীকে অক্ষত রেখেই দেশের উন্নতি করতে হবে।
ওই সভায় পরিবেশবিদরা বলেন,দখল দূষণে ভরাট ও ভাঙনে বাংলাদেশের নদীগুলো আজ মৃতপ্রায়। এর মধ্যে নতুন করে বাঁধ, অপরিকল্পিত ব্রিজ, কালভার্ট এবং স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করে নদীগুলোকে গলাটিপে হত্যার আয়োজন করা হচ্ছে। তারা আরও বলেন, নদ-নদীগুলোকে হাইকোর্ট জীবন্তসত্তা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকার চারপাশে তুরাগ, বালু, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা রক্ষায় বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছেন। কিন্তু সেই রায়কে উপেক্ষা করে তুরাগ নদী ভরাট করে পানিপ্রবাহ সংকুচিত করে বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বক্তারা তুরাগসহ নদীগুলোর স্বাভাবিক গতিপথ ঠিক রেখে নদী হত্যাযজ্ঞের কাজ বন্ধ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান।
