
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃরাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার শস্য চুক্তির মেয়াদ ১৮ মে শেষ হওয়ার কথা। তবে আরেক দফায় চুক্তিটির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস আজ শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে। মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণাটি দিতে পারেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ন।
গত বছরের জুলাইতে তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় এ শস্য চুক্তি সই হয়েছিল। শুরুতে ১২০ দিনের জন্য চুক্তিটি সই হয়। পরে কয়েক দফায় চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
রাশিয়া বরাবরই এই চুক্তির সমালোচনা করে আসছে। দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পশ্চিমা বিধিনিষেধের কারণে রাশিয়ার নিজস্ব কৃষিপণ্য ও সার রপ্তানিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ১৮ মে শস্য চুক্তি থেকে সরে আসবে দেশটি।
চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি বলেছে, ‘আমার মনে হয়, চুক্তির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়বে। তবে রাশিয়া শেষবারের মতো মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হতে পারে। মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ঘোষণা দেবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।’
মেয়াদ বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত আজ কিংবা আগামীকালের মধ্যে ঘোষণার বিষয়টিও নাকচ করে দেয়নি সূত্রটি।
অবশ্য সূত্রটি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনাকে ‘রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বলেছে, গত বছরের ২২ জুলাই ইস্তাম্বুল স্মারকে উল্লেখিত দেশটির দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে সে আশায় এ মনোভাব দেখানো হয়েছে।
রাশিয়া, তুরস্ক, ইউক্রেন ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের মধ্যে ইস্তাম্বুলে আলোচনার পর রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ভারশিনিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মস্কো তার দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না পেলে চুক্তির রাশিয়ার অংশগুলো ১৮ মের মধ্যে বাস্তবায়ন বন্ধ করে দেবে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। তখন বিশ্ববাজারে শস্যের সরবরাহ কমে যাওয়া দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয় জাতিসংঘ ও তুরস্ক। দীর্ঘ আলোচনার পর গত বছরের জুলাইতে এই শস্য চুক্তি সই হয়।
