
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ মঙ্গল হলো সূর্য থেকে চতুর্থ দূরবর্তী গ্রহ এবং বুধের পরেই সৌরজগতের দ্বিতীয়-ক্ষুদ্রতম গ্রহ। ইংরেজি ভাষায় মঙ্গল গ্রহ রোমান পুরাণের যুদ্ধদেবতা মার্সের নাম বহন করে এবং প্রায়শই এই গ্রহটিকে “লাল গ্রহ” নামে অভিহিত করা হয়। এর জন্য দায়ী এই গ্রহের পৃষ্ঠতলে ফেরিক অক্সাইডের আধিক্য, যার ফলে গ্রহটিকে লালচে রঙের দেখায় এবং খালি চোখে দৃশ্যমান মহাজাগতিক বস্তুগুলির মধ্যে এই গ্রহটিকে স্বতন্ত্রভাবে দর্শনীয় করে তোলে। লাল গ্রহে রেকর্ড গড়ে ফেলল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। নাসার পাঠানো ইনজেনুইটি সেখানে হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেছে। তবে এখানেই শেষ নয়। সে যে কত করে থামবে সেটা এখনও পরিস্কার নয়। যদিও তাকে মাত্র ৫ লক্ষ্যমাত্রা দিয়ে লাল গ্রহে পাঠিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তাঁরাও আশা করেননি যে ওসব তুচ্ছ রেকর্ড নস্যাৎ করে সে হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলবে। এর ফলে নাসার গবেষণায় নতুন তথ্য উঠে আসছে - যা আকাশ গবেষণায় খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
২ বছরের বেশি আগে নাসা নতুন করে মঙ্গল নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্যে ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি লাল গ্রহের জেজেরো ক্রেটারে অবতরণ করে নাসার রোভার পারসিভিয়ারেন্স। সেই পারসিভিয়ারেন্সের সঙ্গেই সেখানে পৌঁছয় একটি হেলিকপ্টার। নাম ইনজেনুইটি। পারসিভিয়ারেন্স যখন মঙ্গলের মাটিতে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে চলেছে, তখন মঙ্গলের আকাশে উড়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে ইনজেনুইটি । মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত পাতলা। তারমধ্যেই কিন্তু অল্প সময়ের জন্য করে উড়ে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে ইনজেনুইটি। পাতলা বায়ুমন্ডলের জন্য ইনজেনুইটি বেশি ভ্রমণ করতে পারবে না। এটাই ছিল নাসার গবেষণার উত্তর। কিন্তু এবার ৫০ তম উড়ান সম্পূর্ণ করে ফেলল। কিন্তু নাসার বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন তাঁদের লক্ষ্য ছিল ইনজেনুইটি নামে ওই হেলিকপ্টারকে ৫ বার পর্যন্ত মঙ্গলের আকাশে ওড়ানোর। ইনজেনুইটির কিন্তু সর্বোচ্চ ৫ বার উড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা ছিল মঙ্গলে। কিন্তু এখন সে পৃথিবীর মাসের হিসাবে ২৩ মাস সম্পূর্ণ করে ফেলেছে। অন্যদিকে ৫ বারে শেষ হয়ে যাওয়ার জায়গায় আরও অতিরিক্ত ৪৫ বার ইনজেনুইটি উড়ে নিয়েছে মঙ্গলের আকাশে। ৫০ তম উড়ানে ইনজেনুইটি ১৪৫ সেকেন্ড আকাশে ছিল। ফলে উৎফুল্ল নাসার গবেষকেরা। তাঁরা মঙ্গলের হালকা বায়ুমন্ডল নিয়ে আবার নতুন করে গবেষণা শুরু করেছে।
পৃথিবীতে বসে নাসার বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে দেখলো এই ইনজেনুইটির নতুন উড়ান গতি। ইনজেনুইটি মঙ্গলের মাটি থেকে ৫২ ফুট উঁচু দিয়ে উড়ে তার ৪৯ তম উড়ানে রেকর্ড গড়েছিল। ৫০ তম উড়ানে তার চেয়েও উঁচুতে উড়ে সেই রেকর্ড ভেঙে দিল সে। এবার সে উড়ল ৫৯ ফুট উঁচু দিয়ে। এটা যে ইনজেনুইটি মঙ্গলের আকাশে করতে পারবে তাও ভাবেননি নাসার বিজ্ঞানীরা।
