
নয়াদিল্লি : তিব্বতের নানা সমস্যা মেটাতে নয়াদিল্লিতে আমেরিকার বিশেষ সমণ্বয়রক্ষাকারী আধিকারিক উজরা জেয়া তিব্বতের আধ্যাত্মিক গুরু দলাই লামার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। যা নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ চিন। চিনের তরফে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, কোনও বহিরাগত শক্তি তিব্বত সম্পর্কিত বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার নেই।
প্রসঙ্গত, উজরা জেয়া ইউএস আন্ডার সেক্রেটারি ফর সিভিলিয়ান সিকিউরিটি, ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস। একাধিক মার্কিন আধিকারিকও তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন। রবিবার তিনি দিল্লিতে এসেছিলেন। দিল্লিতে তিনি দলাই লামার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের এই সাক্ষাতের একটি ছবি কেন্দ্রীয় তিব্বতীয় প্রশাসনের তরফে ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছিল। কিন্তু কী নিয়ে এই মিটিং, কী আলোচনা হল তা নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তিব্বত আর চিনের বর্তমান যে পরিস্থিতি, বর্তমানে যে পলিসি তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে মিটিংয়ে।
সূত্রের খবর, তিব্বতের একাধিক আধিকারিক এই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বলে খবর। অন্যদিকে দলাই লামার সঙ্গে ওই বৈঠকে পদস্থ মার্কিন কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এই মিটিংয়ের পরে নিউ দিল্লিতে থাকা চিনের দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই মিটিংয়ের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, কোনও বিদেশি আধিকারিক যেন তিব্বত ইস্যুতে নাক না গলায়। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তিব্বতের ব্যাপারটি পুরো চিনের ব্যাপার। কোনও বিদেশি শক্তির এতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই।
জেয়া যে ভূমিকা নিয়েছেন তার ঘোরতর সমালোচনা করেছে চিন। তারা জানিয়েছেন, চিনের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে আমেরিকার আধিকারিক নাক গলাচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দলাই লামা শুধু মাত্র একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই চিন বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। চিনের তরফে বলা হয়েছে নির্বাসিত তিব্বতীয় সরকার পুরো বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনৈতিক গ্রুপ ও বেআইনী সংগঠন। চিনের সংবিধানের বিরোধী অবস্থান নেয় তারা। এদিকে ভারতে আসার আগে জেয়া টুইট করে জানিয়েছিলেন, ভারত সরকার ও সিভিল সোসাইটির সঙ্গে ইতিবাচক মিটিংয়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। ভারত ও মার্কিন সরকার আরও খোলাখুলি, সমৃদ্ধশালী, সুরক্ষিত বিশ্ব গড়ার জন্য় কাজ করবে।
