
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা নিয়ে আইনি জটিলতা আরও ঘনীভূত হলো। ভোটারদের নাম ছাঁটাইয়ের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলাটি এখন নতুন মোড় নিতে চলেছে। মঙ্গলবার শুনানিতে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী প্রমাণ দাখিল করতে পারেন যে কীভাবে বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা এই প্রশ্নটি রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যদি আদালত এই নতুন মামলাটি মূল মামলার সঙ্গে জুড়ে দেয়, তবে নির্বাচন কমিশনকে কড়া জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাতে দেখা গিয়েছে, ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিচারাধীন। খসড়া তালিকাতে বাদ পড়েছিল প্রায় ৬০ লক্ষের নাম। তা নিয়ে সরব হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদে ধর্মতলায় ধরনায় বসেছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ তুললেন আইনজীবী তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী মেনেকা গুরুস্বামী। তিনি এদিন আদালতে দাবি করেন, আগে ভোট দিয়েছেন এমন বহু নাগরিকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নথি নেওয়াই নাকি হয়নি। তাতে বিচারপতি জানান, তিনি এভাবে এই মামলা শুনতে পারেন না। তাতে মেনেকা গুরুস্বামী এসআইআরের মূল মামলার সঙ্গে একটি যুক্ত করার আর্জি জানান। জানা যাচ্ছে, আগামিকাল মূল মামলার সঙ্গেই এটি শুনবেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। খসড়ায় নাম বাদ পড়েছে ৫৮ লক্ষের। চূড়ান্ত এসআইআর তালিকায় মোট ৭ কোটি ৮ লক্ষের নাম প্রকাশিত হয়েছে। উত্তর কলকাতায় ৪ লক্ষ ৭ হাজারের নাম বাদ গিয়েছে। খসড়ায় বাদ গিয়েছে ৩ লক্ষ ৯০ হাজারের নাম। এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় ১৭ হাজারের নাম বাদ গিয়েছে। দক্ষিণ কলকাতায় চূড়ান্ত তালিকায় বাদ গিয়েছে ৩ হাজার ২০৭ জনের নাম। এর আগে খসড়া তালিকায় ২ লক্ষ ১৬ হাজার জনের নাম বাদ গিয়েছিল। ভবানীপুরে খসড়ায় বাদ গিয়েছিল ৪৪ হাজার ৭৮৭ জনের নাম। নতুন করে বাদ গিয়েছে ২ হাজার ৩২৪ বাদ গিয়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় মোট প্রায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। ১৪ হাজার ১৫৪ ভোটারের নাম অমীমাংসিত। বাঁকুড়ায় বাদ ১ লক্ষ ৩৫ হাজারের নাম। নদিয়ায় ২ লক্ষ ৭০ হাজারের নাম বাদ। লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির গেরোয় ৬০ লক্ষের নথি অমীমাংসিত।
