
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ, তখন ভারতের কন্ঠে শোনা গেল শান্তির বাণী। সোমবার রাজ্যসভায় ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, 'যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়; আলোচনা এবং কূটনীতিই হলো শান্তির একমাত্র পথ।' ভারতের এই দৃঢ় অবস্থান বিশ্বমঞ্চে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। জয়শঙ্কর কেবল উদ্বেগ প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং সমস্ত পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে রক্তক্ষয় বন্ধ করার ওপর জোর দিয়েছেন। ভারতের এই ‘শান্তিদূতের’ ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে নতুন দিশা দেখাতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। এই যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। যার প্রত্যুত্তর দিতে পিছপা হয় তেহরান। ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতেও শুরু হয়েছে বেলাগাম হামলা। গুরুতর এই পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। সেখানেই তিনি বলেন, “আলোচনা ও কূটনীতি দুই তরফের উত্তেজনা হ্রাসের একমাত্র পথ। আমাদের সরকার গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিবৃতি জারি করে এই যুদ্ধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা বিশ্বাস করি উত্তেজনা কমাতে সকলেরই সংলাপ ও কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করা উচিত।”
বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিবিড়ভাবে গোটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছেন। এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে যা যা করণীয় করা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেখানে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার। ওই সব অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস পুরোপুরি সক্রিয়। যুদ্ধে আটকে পড়া পড়ুয়াদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরান যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া যাবতীয় সংকট পর্যালোচনার জন্য ১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিএস) বৈঠক হয়। সেখানেও ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
