
যুক্তরাষ্ট্র, ৯ জুন: যে দেশে একটা সময় ফুটবল বলতে বোঝাত হাত দিয়ে বল ধরে রীতিমতো ধস্তাধস্তি করার একটা খেলা, প্রথাগত ফুটবল যে দেশে পরিচিত সকার নামে, সেখানেই জীবনের শেষ লগ্নে খেলতে গেলেন লিওনেল মেসি। আর জাদুকরের ফেরা হল না প্রিয় বার্সেলোনায়, কিংবা যাওয়া হলো না অঢেল অর্থ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সৌদি আরবেও। মেসি শেষ পর্যন্ত বেছে নিলেন মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামিকে।
ইন্টার মায়ামিতে তিনি চলে গেলেন ইউরোপের ফুটবলের অনেক কিছুই ছেড়ে। অর্থাৎ তাঁকে আর দেখা যাবে না চ্যাম্পিয়নস লিগেও। কিন্তু কেন তিনি মায়ামিতে গেলেন? কেউ কেউ বলছেন, মেসি গেলেন ইন্টার মায়ামিতে বেশ বড় অর্থযোগ আছে বলে। যেমন স্মার্ট টিভিতে ইন্টারনেট স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে এমএলএস সম্প্রচার করে অ্যাপেলের একটি সেবা অ্যাপেল টিভি প্লাস। দর্শকদের পয়সা খরচ করে গোটা মরশুমের খেলা দেখার সাবস্ক্রিপশন কিনতে হয়। মেসি এলে দর্শক বাড়বে, তাই মেসি অ্যাপেলের লাভের অঙ্কে ভাগ বসাবেন।
এই রকম আরও একটা লাভের মুখ দেখবেন মেসি। যখন বৈশ্বিক ক্রীড়াব্র্যান্ড অ্যাডিডাসও মেসির সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তি করবে। মায়ামিতে সাড়ে সাত মিলিয়ন পাউন্ডে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন মেসি। খেলতে এসে থাকবেন সেখানেই যেখানে মার্কিন মুল্লুকের অনেক ধনকুবের সঙ্গে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা থাকেন মায়ামিতে। বিলাসবহুল জীবনযাপন, একটু কম চাপের খেলা আর সেই সঙ্গে বাচ্চাদের শিক্ষা। এইসবের জন্যই মেসি বেছেছেন এই গন্তব্য। তাছাড়া সৌদি আরবে টাকা পেতেন ঠিকই,কিন্তু আন্তোনেলা কি পারতেন সাঁতার পোশাকে রোদ পোহাতে? মেসিই কি পারতেন প্রিয় ওয়াইন আর বেকন খেতে? এসব ভেবেই মেসি মার্কিন মুল্লুককেই পছন্দ করেছেন।
তাছাড়া শোনা যাচ্ছে ইন্টার মায়ামির কোচ হচ্ছেন জেরার্দো টাটা মার্তিনো। সুতরাং প্রাক্তন গুরু-শিষ্যে আবার জমবে মার্কিন মুল্লুকে। আর মেসির মার্কিন মুলুকে যাওয়ার আর একটা বড় কারণ তিনি আগামী বিশ্বকাপটা খেলতে চান। এই ইচ্ছাটা শুধু তারই নয় , ইচ্ছাটা তাঁর দেশবাসীরও। আর সেই বিশ্বকাপটাই যে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তাই মেসির মেজর লিগ সকারে যুক্ত হয়ে থাকাটা অনেক কাজে দেবে তখন।
