
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে বর অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ে করতে যায় ঘোড়ায় চেপে। এটা ওদের সংস্কৃতির একটা অংশ। বিশেষ করে রাজস্থানে এই সংস্কৃতি খুব প্ৰচলিত। রাজস্থানের আজমেরের রামপুরা গ্রামের এক বিয়েবাড়িতে ঘটেছে এই কাণ্ড। বরযাত্রীরা তখন সবে পৌঁছেছে বিয়েবাড়ির সামনে। আশাপাশে দাঁড়িয়ে কনেপক্ষের বহু অতিথি। ব্যান্ডপার্টির বাজনায় মুখর আসর। অনেকেই বাজনার তালে তালে নাচ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘোড়ার পিঠে বসে বরবাবাজিও নাচ করছিলেন। আচমকা ফাটে একটি আতশবাজি। এতেই চমকে ওঠে ঘোড়াটি। ভয়ে বরকে পিঠে নিয়েই সে বিয়েবাড়ি ছেড়ে ছুট লাগায়। সবাই চিৎকার শুরু করে। বর অবশ্য খুব স্মার্ট। ও ঘোড়া থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আর থামে না।
কনের বাড়িতে ঘোড়ায় চেপে রাজকীয় আবির্ভাব হয় তাঁর। সঙ্গে থাকে বারাত বা বরযাত্রী। সেই আয়োজনই হয়েছিল। কিন্তু বেজায় বিপত্তি। রাজস্থানে একটি বিয়ে বাড়িতে আতশবাজির শব্দে চমকে ওঠে ঘোড়া। এর পর সেটি বরকে পিঠে নিয়েই পাগলা ছুট লাগায়। প্রথমটায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে উপস্থিত জনতা। পরে দৌড়ে ধরার চেষ্টা করে ঘোড়াটিকে। উদ্ধারের চেষ্টা করে যুবককে। যদিও ঘোড়াটি তখন জনতার নাগালের বাইরে, বহু দূরে। সকলের ভয় বর যদি ঘোড়ার পিঠ ঠেকে পড়ে যায়,তাহলে বিরাট বিপত্তি। পাগলা ঘোড়ার দৌড়ে প্রাণ যাওয়ার মতো অবস্থা হয় বর যুবকের। সে একধিকবার ঘোড়ার পিঠ থেকে লাফিয়ে নামার চেষ্টা করেও পেরে ওঠেনি। জানা গিয়েছে, শেষে চার কিলোমিটার ছোটার পর থমকায় ঘোড়াটি। অশ্ব স্থির হওয়ামাত্র মাটিতে নামেন বর। দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়েন।তখনও বর ও কনেপক্ষে চিন্তায় ছিলেন। বর বিয়ের আসরে ফিরতে ধরে প্রাণ ফেরে তাদের। এর পর ভালভাবেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে বলে জানা গিয়েছে। তবে ঘোড়াটি কিন্তু পাগল নয়। উশৃঙ্খল মানুষের জন্যই ভয়ে পাগল হয়ে যায়। পশু প্রেমীদের বক্তব্য শুধু নিজের 'কেতা' দেখানোর জন্য নিরীহ প্রাণীর উপর এগুলো নির্যাতন।
