
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ সমস্ত ভারতব্যাপী মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে আছে রেলরুট। ভারতের প্রধান পরিবহন মাধ্যম রেল। ভারতবর্ষকে যদি একটা মানব দেহের সঙ্গে তুলনা করা হয়,তাহলে দেহের সমস্ত শিরা-উপশিরা হলো রেলপথ। ভারতের প্রায় প্রতিটি রাজ্যে এবং প্রধান শহরে রেলওয়ে ব্যবস্থা রয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকে ক্রমশ আরও বেড়েছে রেলের নেটওয়ার্ক। দেশের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় রেল পরিবহণ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভারতে কাশ্মীর থেকে কন্যা কুমারী পর্যন্ত রেল নেটওয়ার্ক চলছে।
এত ব্যস্ততার মধ্যে ভারতের সবচেয়ে ব্যস্ততম রেল স্টেশন হলো মথুরা জংশন। এই রেলস্টেশনে, প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই ট্রেনের শব্দ শোনা যায়। একাধিক রুটের ট্রেন ছাড়ে এখান থেকে। রাজধানী দিল্লি থেকে দক্ষিণগামী প্রায় প্রতিটি ট্রেনই এই রেলপথ দিয়ে যায়। এছাড়াও কাশ্মীর বা কন্যাকুমারীগামী যাত্রীরাও মথুরা রেলওয়ে জংশন থেকে ট্রেন ধরতে পারেন। শুধু তাই নয়, মথুরা রেলওয়ে জংশনের উপর দিয়ে রাজস্থান-সহ অন্য রাজ্যের ট্রেনও যায়। ভারতের প্রতি সমস্ত প্রধান শহরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ আছে মথুরা জংশনের।
ব্রিটিশদের উফ্যাগে প্রথম ১৮৭৫ সালে মথুরা জংশনে প্রথমবারের মতো ট্রেন চালানো হয়েছিল। মথুরা রেলওয়ে জংশন উত্তর-মধ্য রেলওয়ের একটি অংশ। এই রেলওয়ে স্টেশন থেকে ৭টি রুটে ট্রেন চলাচল করে, যার মধ্যে পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর এবং দক্ষিণের প্রায় সমস্ত রেলরুট রয়েছে। এটি এতই ব্যস্ত রেলওয়ে স্টেশন যে সব সময় এর মধ্য দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, অন্যদিকে রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, মধ্যপ্রদেশ- প্রায় সবদিকে ট্রেন মথুরা জংশনের উপর দিয়ে যায়। রেলের উন্নতির জন্য একাধিক পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রস্তাব এনেছিল কেন্দ্রের সরকার। একাধিক স্টেশনের খোলনলচে পাল্টে ফেলার ভাবনাও রয়েছে। সেই মতো কাজও হয়েছে। মথুরা স্টেশনেও নজর ছিল, ওই প্রকল্পের অধীনে এই স্টেশনটিকেও ঢেলে সাজানো হয়েছিল। ২০১৯ সালে মথুরা স্টেশন একেবারে নতুন করে গড়ে ওঠে। এই স্টেশনটি এই মুহূর্তে ভারতের গৌরব।
