
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজনীতির কারণে মানুষ মানুষের শত্রু হয়ে ওঠে - এটা দেখতে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু এবার সেই সঙ্কটের জালে জড়িয়ে পড়ছে ২০ টি চিতা বাঘ। কুনো অরণ্যে চিতার পর্যাপ্ত খাবার নেই। এই কথা বার বার করে বলেছে অরণ্য বিশেষজ্ঞরা। দেশের বাঘ-বিশেষজ্ঞদের এই আশঙ্কায় সুর মিলিয়েছেন সেই যজুবেন্দ্র সিংহ ঝালা, যাঁর তত্ত্বাবধানে আফ্রিকার আদি নিবাস থেকে ২০টি চিতাকে উড়িয়ে আনা হয়েছিল মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে। ‘ন্যাশনাল চিতা অ্যাকশন প্ল্যান’ বা জাতীয় চিতা পুনঃস্থাপন প্রকল্পের বিশিষ্ট বন্যপ্রাণ বিজ্ঞানী যজুবেন্দ্রকে তাঁর মেয়াদ শেষের আগেই সম্প্রতি প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার পরেই চিতাদের খাদ্যসঙ্কটের বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার কথায় এই ২০টি চিতার পর্যাপ্ত খাবার নেই এই জঙ্গলে।
তিনি বলেন,কুনো জাতীয় উদ্যানের যা পরিসর, সেখানে ২০টি চিতার স্বচ্ছন্দ বসবাসের সুযোগ নেই। তা ছাড়া ওখানে চিতাদের শিকার করে খাওয়ার মতো হরিণ বা বনশুয়োরের অভাব রয়েছে।’’ যজুবেন্দ্রের পরামর্শ, কুনো জাতীয় উদ্যানের লাগোয়া মুকুন্দারা অভয়ারণ্যের কিছুটা অংশও চিতা পুনঃস্থাপন কেন্দ্রের অন্তর্গত করা প্রয়োজন। তবে সেই অনুমোদন যে ‘রাজনীতি-সাপেক্ষ’, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। যজুবেন্দ্র বলেন, ‘‘রাজস্থানের মুকুন্দরার জঙ্গলে খাবারের কোনও অভাব হবে না চিতাদের। তবে চিতার আবাসস্থলের ঠিকানা হিসেবে মুকুন্দরার জঙ্গল অধিগ্রহণে কেন্দ্র খুব একটা উৎসাহী নয়। আমার মনে হয়, এই অনীহা একেবারেই রাজনৈতিক কারণে।’’ রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ— দুই রাজ্যে রাজনীতির রং আলাদা। বিজেপি-শাসিত মধ্যপ্রদেশ সরকার কংগ্রেসের দখলে থাকা রাজস্থান সরকারের অনুগ্রহ চায় না বলেই থমকে গিয়েছে চিতাদের আবাসস্থলের বিস্তারের সুযোগ— অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের। এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ ভবিষ্যৎ জানাবে।
