
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বারাণসী কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়াতেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হারিয়ে দিতেন। দুই থেকে তিন লক্ষ ভোটে। এমনই দাবি করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তবে একথা যে নেহাতই উদ্ধত হয়ে তিনি বলছেন না, সেকথাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি। তাঁর সাফ কথা, দেশের মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা মোদির রাজনীতিতে সন্তুষ্ট নন। মোদী সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় ২০ জন নেতা-মন্ত্রীর ছেলেকে মন্ত্রী করার দিকে আঙুল তুলে রাহুলের কটাক্ষ, ‘‘কথায় ও কাজে ফারাকের নামই নরেন্দ্র মোদী!’’
উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলি লোকসভা আসনে রাহুল গান্ধী এবার ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ভোটে জিতেছেন। সেই সমারোহে রাহুলের সঙ্গে প্রিয়ঙ্কাও উপস্থিত ছিলেন। রাহুল এদিন মোদীর উদ্দেশে কটাক্ষ করে বলেন, “বিজেপি অযোধ্যা আসনে হেরে গেছে। রাম মন্দির নির্মাণ করার পরেও হেরে গেছে। রাম মন্দিরের উদ্বোধন সমারোহে কোনও গরিব, কোনও অনগ্রসর, কোনও দলিতকে দেখা যায়নি। মোদীর বন্ধুরা ছিলেন। আদানি-জি ছিলেন। আম্বানি-জি ছিলেন। গোটা বলিউড ছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না।”
এখানেই থামেননি রাহুল। তিনি বলেন, দেশের রাষ্ট্রপতি হলেন জনজাতি সমাজের। তাঁকেও রাম মন্দিরের উদ্বোধনে ডাকা হয়নি। এর জবাব অযোধ্যার মানুষ দিয়েছে। “শুধু অযোধ্যা নয়, বারাণসী থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী”। এর পরই বোন প্রিয়ঙ্কার দিকে তাকিয়ে রাহুল বলেন, ও বারাণসীতে প্রার্থী হলে মোদী হেরে যেতেন।
বারাণসী লোকসভা আসনে মোদীর জয়ের মার্জিন এবার এক ধাক্কায় অনেকটা নেমে গেছে। মাত্র ১ লক্ষ ৫২ হাজার ভোটে জিতেছেন তিনি। এমনকি প্রথম দিকে দেখা যাচ্ছিল বারাণসীতে ৬১৩২ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভোটের গণনার দিন সকালেই তা দেখেই অনেকে আন্দাজ করতে শুরু করেছিলেন উত্তরপ্রদেশে ধরাশায়ী হতে চলেছে বিজেপি।
সেটাই হয়েছে। কংগ্রেস ও সপা মিলিয়ে বিজেপির চেয়ে অনেক বেশি আসনে জিতেছে দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্যে। বস্তুত উত্তরপ্রদেশের ভোটকে প্রভাবিত করতেই একদা গুজরাত ছেড়ে বারাণসীতে প্রার্থী হওয়া শুরু করেছিলেন মোদী। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এই ভোট দেখিয়ে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশে মোদী ম্যাজিক আর তেমন চলছে না।
