
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শেয়ার বাজারে আত্মপ্রকাশ করেই নজর কাড়ল মুকেশ আম্বানির জিও প্ল্যাটফর্মস। বুধবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই) ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (এনএসই) তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সংস্থার শেয়ার ইস্যু মূল্যের তুলনায় ২১ শতাংশেরও বেশি প্রিমিয়ামে লেনদেন শুরু করে। শেয়ারপ্রতি ১,১১৯ টাকা ইস্যু মূল্যের বিপরীতে বাজারে লেনদেন শুরু হয় ১,৩৫৮ টাকায়। অর্থাৎ, প্রথম দিনেই শেয়ারের দামে ২১.৩৬ শতাংশ উত্থান দেখা যায়। এই তালিকাভুক্তির সুবাদে বাজার মূলধনের নিরিখে দেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক মূল্যবান সংস্থার জায়গা করে নিয়েছে জিও প্ল্যাটফর্মস।
জিওর শেয়ার বাজারে আসার আগেই সংস্থার প্রাথমিক শেয়ার বিক্রিতে বিপুল সাড়া মিলেছিল। ৩০,২১৩ কোটি টাকার এই আইপিওতে মোট দরপত্র জমা পড়ে প্রায় ৭.৩ লক্ষ কোটি টাকার। দেশের কোনও পাবলিক ইস্যুতে এর আগে এত বিপুল অঙ্কের দরপত্র জমা পড়েনি। আইপিওটি মোট ২২.১৯ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। শেয়ার বাজারের তথ্য অনুযায়ী, আইপিও বন্ধ হওয়ার দিনে যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতারা তাঁদের জন্য বরাদ্দ শেয়ারের তুলনায় ৭০.৫৫ গুণ বেশি দরপত্র জমা দেন। অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ অংশেও চাহিদা ছিল বরাদ্দের ৩০ গুণের বেশি। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মোট দরপত্রের অঙ্ক প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল।
এই বিপুল সাড়া এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সামগ্রিক শেয়ার বাজার একাধিক আর্থিক চাপে রয়েছে। অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম, মূল্যবৃদ্ধি, বন্ডের সুদের হার এবং ঋণের উচ্চ সুদ বাজারের উপর চাপ তৈরি করেছে। বুধবার বাজার খোলার পর সেনসেক্স প্রায় ৭০০ পয়েন্ট পড়ে যায়। নিফটি ৫০-ও ১৮০ পয়েন্টের বেশি নেমেছিল। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার শেয়ারগুলির মধ্যে ইনফোসিস, টিসিএস, টেক মহিন্দ্রা ও এইচসিএল টেকনোলজির দর কমে। এই পরিস্থিতিতেও জিওর আইপিওতে বিপুল চাহিদা সংস্থাটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০১৬ সালে পরিষেবা চালুর পর থেকেই ভারতের টেলিকম ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে জিও। কম দামে পরিষেবা, দ্রুত চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল পরিষেবার বিস্তার সংস্থাটির বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে জিওর গ্রাহক সংখ্যা ৫২.৪ কোটির বেশি। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্কের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২৬.৮ কোটি। সংস্থার মোট ওয়্যারলেস ডেটা ব্যবহারের ৫৫ শতাংশই আসে এই নেটওয়ার্ক থেকে। আইপিওর সাফল্য নিয়ে মুকেশ আম্বানি জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের সাড়া তাঁদের প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। জিওকে আরও বড়, উন্নত এবং দেশের মানুষের কাছে আরও কার্যকর করে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। আকাশ আম্বানির বক্তব্য, মহাকাশ থেকে সংযোগ-সহ জীবন বদলে দিতে পারে, এমন প্রযুক্তি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই জিওর লক্ষ্য।
