
কলকাতা, ৩১ জুলাই : বিজেপি নেতাদের বাড়ি ঘেরাওয়ের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
যুব কংগ্রেসের আগামী ৫ অগাস্টের কর্মসূচি বড়সড় ধাক্কা খেল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই সব কাজ সাধারণ মানুষের জীবনের উপর প্রভাব ফেলে তাই এই ধরনের কাজ না করাই উচিত। প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজনীতি করতে হলে নির্দিষ্ট ফোরামে করুন।
বিচারপতিরা জানান, এটা জনস্বার্থ বিরোধী কর্মসূচি, কোনওভাবেই তা করতে দেওয়া যাবে না। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এতে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। আর তা নিয়ে রাজ্য কিছু না করলে তা চিন্তার বিষয়। আর তার জেরেই বিজেপি নেতাদের বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচি বাতিলের নির্দেশ দিল হাই কোর্ট।
গত ২১ জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূলের শহিদ দিবসে রাজ্যের সমস্ত বিজেপি নেতার বাড়ি ঘেরাও করার ডাক দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ”আগামী ৫ আগস্ট রাজ্যের যত ছোট, বড়, মেজ বিজেপি নেতা আছেন, সকলের বাড়ি ঘেরাও করুন। একদম বাড়িতে কাউকে ঢুকতে বা বেরতে দেবেন না। তবে বাড়ির বয়স্কদের জন্য ছাড় রয়েছে। তাঁদের আটকাবেন না।”
এর পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখতে উঠে তা একটু সংশোধন করে দেন। তিনি জানান, বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরত্বে ঘেরাও করতে হবে। আর কর্মসূচি হোক ব্লকে ব্লকে।
তিনি বলেন, প্রোগ্রামটা একটু বদল করছি। বুথে বুথে নয়, ব্লকে ব্লকে ওই কর্মসূচি হবে নেতাদের বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরে, যাতে কেউ অবরোধের কথা না তুলতে পারে। অভিষেকের ঘোষিত কর্মসূচি মঞ্চেই নেত্রী বদলে দেওয়া নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে তখন থেকেই চর্চা শুরু হয়।
কিন্তু এরপরও হাই কোর্ট তা বাতিল করে দিল। এদিন প্রধান বিচারপতি টি শিবজ্ঞানম বলেন, “ধরুন কেউ বলল, হাই কোর্ট ঘেরাও করবে, তাহলে কি প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেবে না?” প্রধান বিচারপতি টিএস শিবাজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্রাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চের আরও বক্তব্য, শান্তি বিঘ্নিত করে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা দেয়, এই ধরনের কোনও কর্মসূচিই পালন করা যাবে না। এ বিষয়ে রাজ্যকে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে।
এদিন শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ২১ জুলাই নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বলেন, ”২১ জুলাই সভার জন্য কোর্টে কোনও কাজ হয়নি। সাড়ে ১১ টার মধ্যে কোর্ট রুম ফাঁকা হয়ে যায়। আমরা বিচারপতিরা উঠে যেতে বাধ্য হই। রাজনীতি করুন। আপনি জিতুন, অন্যরা হারুক। আপনি হারুন, অন্যরা জিতুক। কিন্তু তার জন্য সাধারণ মানুষ কেন ভুগবে?”
