West Bengal

2 years ago

Dhupaguri: বিনা যুদ্ধে ধূপগুড়ির সূচ্যগ্র মেদিনী ছাড়তে নারাজ বিজেপি

BJP is unwilling to leave Dhupaguri without a fight
BJP is unwilling to leave Dhupaguri without a fight

 

জলপাইগুড়ি, ১ সেপ্টেম্বর: দলের ঢিলেঢালা সংগঠনকে সম্বল করেই ধূপগুড়ির লড়াই জেতার চেষ্টায় নেমেছে। দলের মতে, এটা নিছক উপনির্বাচনের একটা আসন নয়, লোকসভা ভোটের আগে একটা বার্তাবহও বটে।

ঠিক ছিল রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ২৮ এবং ২৯ অগস্ট সমাবেশ করবেন ধূপগুড়িতে। আবার যাবেন ২ সেপ্টেম্বর শেষবেলায়। কিন্তু ২৮ তারিখ থেকেই ধূপগুড়ির মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন সুকান্তবাবু। প্রতি দিনই সভা-সমাবেশ করছেন। কর্মীবৈঠক ও বাড়ি বাড়ি প্রচারেও যাচ্ছেন।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রচারের শেষবেলা পর্যন্ত ধূপগুড়িতেই থাকবেন সুকান্তবাবু। বুধবার গিয়েছেন শুভেন্দুবাবু। বৃহস্পতিবারেও তিনি প্রচার করেছেন। শুক্রবার রাতেই জলপাইগুড়ি রওনা দিচ্ছেন দিলীপ ঘোষ। শেষবেলার প্রচারে শনিবার দিনভর ধূপগুড়িতে থাকার কথা তাঁর।

জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্তকুমার রায়, ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মণও লাগাতার প্রচারে রয়েছেন। রয়েছেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি রথীন্দ্র বসু-সহ অন্য নেতারা। নেই শুধু অনন্ত মহারাজ।

ধূপগুড়িতে বিজেপির উপস্থিতি প্রথম চোখে পড়ে ২০১৮ সালে। সে বার ধূপগুড়ি পুরসভা নির্বাচনে চারটি ওয়ার্ডে জিতেছিল গেরুয়া শিবির। সে বার পঞ্চায়েত ভোটেও ওই বিধানসভার গ্রামাঞ্চলে খাতা খুলেছিল তারা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জলপাইগুড়ি আসনে ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ভোটে জেতে।

ধূপগুড়ি বিধানসভাতেও তারা এগিয়েই ছিল। গত বিধানসভা নির্বাচনে তারা ধুপগুড়িতে ৪৫.৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জেতে ৪,৩৫৫ ভোটে। তৃণমূল পেয়েছিল ৪৩.৭৫ শতাংশ ভোট। সিপিএম ৫.৭৩ শতাংশ।

ধূপগুড়িতে জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে রাজবংশী ভোটের ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭৭ সাল থেকে বিধানসভায় রাজবংশী প্রতিনিধি পাঠিয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার এই আসন। ২০২১ সালে বিজেপির হয়ে জেতেন রাজবংশী বিষ্ণুপদ রায়। তাঁর মৃত্যুতেই উপনির্বাচন হচ্ছে সেখানে।

এ বারেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বীরা সকলেই রাজবংশী। সিপিএমের ঈশ্বরচন্দ্র রায় (কংগ্রেস সমর্থিত), তৃণমূলের নির্মলচন্দ্র রায় এবং বিজেপির তাপসী রায়। বাম এবং তৃণমূলের প্রার্থীরা ‘রাজনীতিক’ হলেও বিজেপির তাপসী কখনও রাজনীতি করেননি। ভোটের ময়দানে তাঁর পরিচয় পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় নিহত সিআরপিএফ জওয়ান জগন্নাথ রায়ের স্ত্রী। যা থেকে স্পষ্ট— ‘শহিদ’ আবেগ কাজে লাগিয়ে জয় পেতে চাইছে বিজেপি। যে কারণে প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হয়েছিল স্বাধীনতার দিবসের রাতে।

প্রাথমিক ভাবে ‘শহিদ’ আবেগ এবং রাজবংশী ভোটের অঙ্ক কষেই ময়দানে নেমেছিল বিজেপি। কিন্তু পরে দলের অভ্যন্তরীণ হিসাবে দেখা যায়, ওই এলাকায় রাজবংশী ভোট তিন ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা। কারণ, সব দলের প্রার্থীই রাজবংশী সম্প্রদায়ের। আর বিজেপি প্রকাশ্যে যতই দাবি করুক, তারাও জানে, রাজবংশী ভোটের সবটাই ‘গেরুয়া’ নয়।

পঞ্চায়েতে নির্বাচনেই দেখা গিয়েছে, ওই আসনের গ্রামাঞ্চলে জেলা পরিষদ স্তরে তৃণমূল পেয়েছে ৪৭.৬০ শতাংশ ভোট। বিজেপি পেয়েছে ৩৯.২০ শতাংশ। বাম-কংগ্রেস জোটের দখলে ছিল ১২.১০ শতাংশ ভোট।



You might also like!