
নদিয়া, ১৯ এপ্রিল : গরমে যখন বঙ্গবাসী অতিষ্ঠ, তখন কম্বল বিতরণ করে বিতর্কে জড়ালেন নদিয়া জেলার করিমপুরের তৃণমূল বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায়। বিধায়কের এই কাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সামাজিক মাধ্যমেও বিধায়ককে এই নিয়ে কটাক্ষ করতে দেখা গিয়েছে অনেককে।
প্রখর রোদে বঙ্গবাসীর জীবন জেরবার। চাঁদিফাটা রোদের তাপে বেশিক্ষণ বাইরে দাঁড়িতে থাকা যাচ্ছে না, তখন কোন যুক্তিতে বিধায়কের কম্বলদান, সেই প্রশ্ন তুলছেন এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, এই গরমে গরিব মানুষের জন্য জল ও আচ্ছাদনের পরিবর্তে কোন যুক্তিতে কম্বল বিতরণের সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূল বিধায়ক।
বুধবার সামাজিক মাধ্যমে এ ব্যাপারে কয়েক হাজার নেটনাগরিকের প্রতিক্রিয়া এসেছে। কৃষ্ণজ্যোতি দেব লিখেছেন, “কম্বল কেন দিচ্ছে ? রুম হীটার দিলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতো।” ইচ্ছা রায় লিখেছেন, “ভালো উদ্যোগ! কম্বল ভিজিয়ে গায়ে দিলে বেশ ঠাণ্ডা লাগবে!” শঙ্কর রায় লিখেছেন, “একটা করে তোয়ালে /গামছা কিম্বা শীতল পাটি দেওয়া উচিত ছিল ৷ হয়তো মাটির কুঁজো হলেও ভাল ছিল ৷ এ সব না দিয়ে কিছু অর্থ সাহায্য দেওয়া যেতেই পাড়ত ৷ অন্তত কিছুটা পাপের বোঝা থেকে হাল্কা হতে পারতেন ৷ যাই হোক জনতা নির্বাচিত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা বিধায়ক তো” (সঙ্গে ১৫টি হরেক কিসিমের হাস্যমুখ)৷
অরূপ বিশ্বাস লিখেছেন, “আগামী শীতের সময় উনি জেলের বাইরে থাকবেন কি না। তাই আগে থেকেই এই ব্যবস্থা।“ শ্যামলী রায় কর্মকার লিখেছেন, “কম্বলের অনেক উপকারিতা...
কম্বল ধোলাই তার মধ্যে একটি...যাকে যখন দরকার দেওয়া যেতে পারে।” প্রীতম বিশ্বাস লিখেছেন, “দিন দিন জ্ঞান বাড়ছে এদের। মস্তিস্ক অবিলম্বে সংরক্ষণ এর ব্যাবস্থা করা হোক।”
সমীর ঘড়াই লিখেছেন, “কম্বল গচ্ছিত করে রেখেছিল। আসলে কম্বল ভিজিয়ে জানালায় টাঙিয়ে রাখার জন্যে বিতরণ করেছে। আমাদের রাজ্যে এতো অশিক্ষিত আছে বলে জানতাম না । দিদি আমার অনুপ্রেরণা দিদি ওনার ও অনুপ্রেরণা। এক অংশের রাজ্যবাসীর সমূচি ফিরে আসুক।” এম মিঠুন লিখেছেন, “উনি সিবিআই কে বোঝাতে চাইলেন। যদি চুরি করতাম এসি দিতাম কম্বল নয়।”
শ্রীকৃষ্ণ ঘোষ লিখেছেন, “আক্কেল কম। ওঁকে কম্বল জড়িয়ে একবেলা শুইয়ে রাখুন। দেখুন যদি আক্কেল হয়।” রাশেশ্বর ধর লিখেছেন, “কম্বল বিতরনের সময় এই গরমে কম্বল ব্যবহারের নির্দেশিকা টা তিনি দিতে ভুলে গিয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল, ঘরের চাল বা ছাদে কম্বলটা বিছিয়ে তা জল দিয়ে ভিজিয়ে দিন, তাতে ঘরে রোদের আচঁ কম লাগবে।” সঞ্জীবন ঘোষ লিখেছেন, “কম্বলের ভেতর বরফ ভরা আছে।”
যদিও কম্বল বিতরণের মধ্যে কোনও ভুল দেখছেন তৃণমূল বিধায়ক। তিনি বলেন, "একটা ছোট বিষয় নিয়ে কেন এত বিতর্ক হচ্ছে বুঝতে পারছি না। এটা অন্যভাবে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন রয়েছে। শুধু কম্বলের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু সেখানে যে বাচ্চাদের জামাপ্যান্ট, বড়দের লুঙ্গি বিতরণ করা হল সেই নিয়ে কেউ কোনও কথা বলছে না।"
