
কলকাতা, ১৩ মার্চ : সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। তার আগে দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে ডাকলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী শুক্রবার কালীঘাটের কার্যালয়ে হবে এই বৈঠক। আগামী দিনে দলের কাজ কী হবে এবং সেই কাজ কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে ওই বৈঠকে তার পথনির্দেশ দেবেন তৃণমূলনেত্রী৷ পাশাপাশি, ওই বৈঠকে সাগরদিঘি উপনির্বাচনে পরাজয়ের কারণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উঠে আসবে নানা কথা।
এই বৈঠকে সাংসদ, জেলা সভাপতি–সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই সাগরদিঘি উপনির্বাচনে শাসকদলকে হারতে হয়েছে, যা রীতিমতো অস্বস্তি বাড়িয়েছে ঘাসফুল শিবিরে। জানা গেছে, এই নিয়েও পর্যালোচনা করা হবে ওই বৈঠকে।
কয়েক দিনের মধ্যেই পঞ্চায়েত ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে পারে। সেই জন্যই দলের নেতাদের নিয়ে এই বৈঠক বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে সাফল্যের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার বার্তা এখান থেকে দেওয়া হবে। এখন দেখার বিষয়, এই বৈঠকে কী বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে একাধিক শীর্ষনেতা ফোন পেয়েছেন ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য আগামী মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তৃণমূল সূত্রের খবর, শুক্রবারের বৈঠকে সেই নির্বাচনের জন্য দলীয় কর্মসূচি এবং নীতি নির্ধারণ করা হবে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য দল কী কী কৌশল নিতে পারে, তা নিয়ে এখন থেকেই নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন দলনেত্রী স্বয়ং। তৃণমূলের শীর্ষ নেতারাই শুধুমাত্র এই বৈঠকে হাজির থাকবেন। ইতিমধ্যেই ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সুব্রত বক্সীদের কাছে বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ চলে গিয়েছে।
দলের একটি সূত্রের দাবি, ১৭ তারিখের বৈঠকে উঠে আসবে সাগরদিঘির উপনির্বাচনে অপ্রত্যাশিত হারের প্রসঙ্গও। উপনির্বাচনে ধাক্কার পর নড়েচড়ে বসেছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। হারের কারণ খুঁজতে মমতা তড়িঘড়ি পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। বিধানসভায় মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর ঘরে বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী জাভেদ খান, সেচ প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান এবং সংখ্যালঘু প্রতিমন্ত্রী গোলাম রব্বানী প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন। পরাজয়ের ২৫টি কারণ উঠে আসে আলোচনায়।
সেই ২৫টি কারণ উল্লেখ করে কমিটির একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে খবর। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই রিপোর্ট জমা পড়ার কথা দলনেত্রী মমতার হাতে। তেমন হলে কালীঘাটের বৈঠকে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে সেই রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে পরামর্শ এবং নির্দেশ দিতে পারেন তৃণমূলনেত্রী।
