
দুর্গাপুর : গরিব মানুষের ভোট খুব মিষ্টি লাগে। অথচ ভোটের পর তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়করা অনগ্রসর এলাকা থেকে বাড়ি ফিরে ডেটল সাবান দিয়ে স্নান করে। সরকারের নামে সার্কাস চলছে রাজ্যে।পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের পর আরও সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। তৃণমূলের কোন্দল আরও প্রকট হবে।' বুধবার অন্ডালের মুকুন্দপুর বাউরিপাড়া পরিদর্শনে গিয়ে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি।
প্রসঙ্গত, আগামী লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়দানে নেমেছে গেরুয়া শিবির। বুধবার অন্ডালের মুকুন্দপুর কোলিয়ারি এলাকায় তরুণ কর্মীদের উৎসাহ দিতে সাংগঠনিক সভা করেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বহু বিজেপি কর্মী শাসক দলের হুমকিতে ভিত সন্ত্রস্ত। জিতেন্দ্র তিওয়ারি তাদের পাশে থেকে উৎসাহ দিতে আসরে নামেন। এদিন মুকুন্দপুর কোলিয়ারি এলাকায় ঢুকতেই বিজেপির যুব কর্মীরা উচ্ছাস শুরু করে। সেখানের গ্রামে অনুন্নয়নের পরিবেশ দেখার জন্য করুন আবেদন করে গ্রামবাসীরা। গ্রামের পাথরচুড় বাউরি পাড়ায় উন্নয়নের ছিঁটে ফোটাও জোটেনি বলে অভিযোগ। বেহাল রাস্তা, পানীয় জলের অবস্থা তথৈবচে।
বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলা সহ সভাপতি ছোটন চক্রবর্তী অভিযোগে বলেন," এলাকাটি বিজেপি সমর্থক বেশী। তাই সেভাবে উন্নয়নমুলক কাজ করে না রাজ্যের তৃণমূল সরকার। দ্বিচারিতা করে।" বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারী বলেন," তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়করা কেবল সুযোগের সন্ধানে ঘোরাফেরা করে। সাধারণ গরিব মানুষের কথা চিন্তা করেন না। তাদের কাছে গরিব মানুষের ভোট খুব মিষ্টি। অথচ ভোটের পর এলাকার কোনো গরিব মানুষকে কাছে ঘেষতে দেয় না। তাদের দুর্গন্ধ লাগে। এসব এলাকা থেকে বাড়ি ফিরে তারা ডেটল সাবান দিয়ে স্নান করেন।"
তিনি আরও বলেন," রাজ্যে সরকারের নামে সার্কাস চলছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নিজেদের মধ্য মারপিট হচ্ছে। পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনে তৃণমূলের কোন্দল আরও প্রকট হবে। মানুষ সবই দেখছে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে তার জবাব দেবে।" যদিও বিজেপির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের পাল্টা দাবী,' তৃণমূল মা-মাটি- মানুষের কথা বলে। রাজ্যে মা-মাটি- মানুষের সরকার। পঞ্চায়েত ভোটে মানুষ বিজেপিকে যোগ্য জবাব দিয়ে পুনরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দু হাত তুলে সমর্থন করেছে।'
