
কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর : পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলা দিবস ও রাজ্য সঙ্গীত নিয়ে প্রস্তাব আনা হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। ১ বৈশাখকে বাংলা দিবস করার পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে ওই প্রস্তাবে। এর পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গানটিকে রাজ্য সঙ্গীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার তৃণমূল পরিষদীয় দলের তরফে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাবক হিসাবে নাম রয়েছে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুশীল সাহা, বিরবাহা হাঁসদা, সত্যজিৎ বর্মণ, কালীপদ মণ্ডল, বিশ্বজিৎ দাস এবং কৃষ্ণ কল্যাণীর। যদিও বাংলা দিবস ঘোষণার বিরুদ্ধে রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ জানাতে রাজভবনে যাচ্ছেন বিজেপি বিধায়কেরা।
বিজেপি সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে নাগাদ বিধানসভা থেকে মিছিল করে রাজভবনের উদ্দেশে যাবেন দলীয় বিধায়কেরা। রাজ্য দিবস এবং রাজ্য সঙ্গীত নিয়ে প্রস্তাব আনার বিষয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “রাজ্যপাল এই প্রস্তাবে সই করবেন না। রাজ্যের নাম পরিবর্তন, বিধান পরিষদ গঠনের মতোই হাল হবে এই প্রস্তাবের।” উল্লেখ্য, এই বিষয়গুলি নিয়ে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করানো হলেও সেগুলি এখনও পর্যন্ত কার্যকর করা যায়নি।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে কোন দিনটিকে বেছে নেওয়া হবে, তা নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই বিতর্ক চলছে রাজ্য রাজনীতিতে। রাজ্য বিজেপির তরফে স্থির হয়েছিল ২০ জুন তারিখটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালন করা হবে। কারণ, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার ভোটাভুটিতে বাংলা ভাগের বিষয়টি স্থির হয়েছিল। বাংলা দু’ভাগে ভাগ হয়ে পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গ ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়। বাংলাদেশ আলাদা হয়ে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু রাজ্যের শাসকদল ও বিশিষ্টজনদের একাংশেরও বক্তব্য, দেশভাগের সঙ্গে বেদনার স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। তাই ওই দিনটি পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পেতে পারে না। অবশেষে ১ বৈশাখকে বাংলা দিবস করার পক্ষে প্রস্তাবে আনা হয় ।
