গ্যাংটক, ৬ অক্টোবর : সামনেই পুজো। প্রতি বছরই হাজার হাজার বাঙালি পুজোর লম্বা ছুটিতে দার্জিলিং, সিকিমে ভিড় জমান। কিন্তু এক রাতের হড়পা বানে ভেস্তে গিয়েছে সমস্ত পরিকল্পনা। কারণ, পাহাড়ে যাবেন কী করে?
১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একটা বড় অংশই যে এখন তিস্তার পেটে। গোটা দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে সিকিমের। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা এখনও আন্দাজ করা যাচ্ছে না। নিম্নচাপের কারণে ফের বৃষ্টি হতে পারে পাহাড়ে, আরও বিপদ বাড়তে পারে সিকিমের। এই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা যে সহজ হবে না, তা আন্দাজ করা যাচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি দেখেই।
শুধু রাস্তাই নয়, ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলগুলিও। যেখানে সিকিমের রাজস্বের ৮০ শতাংশই পর্যটন শিল্প থেকে আসে, সেখানে মঙ্গলবারের হড়পা বান ও ক্ষয়ক্ষতির পর একাধিক হোটেল কর্তৃপক্ষের তরফেই চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত হোটেল খোলা সম্ভব নয়। কোনও পর্যটককে স্বাগত জানানো সম্ভব নয়। এদিকে, পুজোর বুকিং তো হয়ে গিয়েছে।
পর্যটন নির্ভর অর্থনীতির সিকিমে উৎসবের মরশুম থেকেই বড় অংশের আয় হয়। এই অবস্থায় যদি ব্যবসায়ীরা হোটেল-রিসর্ট খুলতে না পারেন তাহলে তাঁদের জীবন চলবে কী ভাবে?
যাঁরা হোটেল-গাড়ি বুকিং করেছেন, তাঁরা টাকা ফেরত চাইছেন। কিন্তু হোটেল মালিকরাই বা টাকা ফেরত দেবেন কী করে? তাঁদের আয়ের উৎস, সম্বলটুকুই যে ভেসে গিয়েছে। তাঁরা বলছেন, পুজোর আগে তিস্তার রুদ্র রূপ ভাসিয়ে নিয়ে গেল উপার্জনের স্বপ্নটাই। সব মিলিয়ে পর্যটক, পর্যটন-ব্যবস্থাপক সবারই গভীর দুশ্চিন্তা।
