
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করার পর সবার চিন্তা থাকে একটি ভালো চাকরি করার। তবে সেই সোনার হরিণ নামক চাকরি কয়জনের ভাগ্যে জোটে। আবার জুটলেও অনেকের মন বসে না দশটা পাঁচটা অফিসের নিয়মের। তবে এ একেবারে ভিন্ন চিত্র বেকারত্বের এই বাজারে দিন প্রতিদিন কাজের পরিমান ও প্রেসার বাড়তে থাকায় চাকরি ব্যাঙ্কের মতো চাকুরি ছেড়ে নামলেন চা চপের ব্যাবসায়। বাঁকুড়া শহরের পশ্চিম সানাবাধের বাসিন্দা সঞ্চিতা ভট্টাচার্য এবং সুচিস্মিতা গোস্বামী দুই বোন মিলে বাঁকুড়ার লোকপুরে চা আর চিংড়ির চপ বিক্রি করছেন প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি ছেড়ে এসে। আর তা ইতিমধ্যে ভাইরাল নেটদুনিয়ায়।সাম্প্রতিক সামাজিক মাধ্যমে একটি ব্যাংক কর্মচারীর দুর্ব্যবহারের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিওটি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয়, ঠিক কতটা মানসিক চাপ এবং কাজের চাপ থাকে কিছু কিছু প্রাইভেট কোম্পানিতে। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে আজ চায়ের দোকান! তবে এ কোনও সাধারণ চায়ের দোকান নয়। এই চায়ের দোকানে চা ছাড়াও পাওয়া যায় ড্র্যাগন চিকেন, চিকেন নাগেট এবং বাগদা চিংড়ির চপ। মাত্র ১০ দিন হল চাকরি ছেড়ে এসে এই দোকান খুলেছেন দুই বোন মিলে। ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছে তাদের 'আড্ডা' নামের স্টলটি।

বিশেষভাবে তৈরি বাগদা চিংড়ি চপের চাহিদাও তুঙ্গে, দেদার মিলছে ক্রেতা। বাঁকুড়া শহরে বেশ দুর্লভ এই বাগদা চিংড়ির চপ। পুরো কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁদের স্বামীরাও। সুচিস্মিতা গোস্বামী জানান 'প্রাইভেট কোম্পানির চাকরিতে প্রচন্ড মানসিক চাপ এবং কাজের প্রেসার থাকে। সেই কারণেই চাকরি ছেড়ে এসে স্বাধিন ও স্বনির্ভরতার পথ ধরতে এই চায়ের দোকান খুলেছি।তাদের আড্ডার স্পেশাল হল বাগদা চিংড়ির চপ। বিভিন্ন মসলা সহযোগে পুর বানিয়ে একটি বাগদা চিংড়ি ভেতরে ঢুকিয়ে সেটাকে ডাবল ফ্রাই করলেই রেডি এই বিশেষ চিংড়ির চপ এবং এই চপ খেতে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে ভিড় জমাচ্ছেন চপ প্রেমীরা। সামাজিক মাধ্যমের হাত ধরে আড্ডার জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। অনেকেই আছেন যারা নিজেদের কাজ ছেড়ে সনির্ভর হওয়ায় স্বপ্ন বুনে চলেছেন কিন্তু সাহস অর্থাত্ যেটাকে ইংরেজিতে 'লিপ ওফ্ ফেইথ' সেটা নিতে পারছেন না। কিন্তু সেই সাহসটা দেখতে পেরেছেন এই দুই বোন। ছোট বোন সঞ্চিতা ভট্টাচার্য্য জানান 'একটু সাহস দেখিয়ে যদি নিজের স্বপ্নকে তাড়া করা যায় তাহলে হয়ত ভালো কিছু হতে পারে।
