
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রথম দফা ভোটের আগে প্রার্থীদের জন্য গাইডলাইন কমিশনের (Election Commission of India)। নির্বাচনের দিন সকাল ৬টা থেকে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজের বিধানসভা এলাকা থেকে বেরোতে পারবেন না কোনও প্রার্থীই। তেমনটাই খবর কমিশন সূত্রে। বৃহস্পতিবার ১৬ জেলার ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের প্রার্থীদের জন্য এমনই গাইডলাইন নির্বাচন কমিশনের।
ভোট চলাকালীন নিজের বিধানসভা এলাকাতেই থাকতে হবে প্রার্থীদের। কমিশন জানিয়েছে, কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা গোলমালের মধ্যে জড়ানো যাবে না। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ হয় এবং গণতান্ত্রিক ভাবে মানুষ যেন তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রত্যেক প্রার্থীকে।
অন্য দিকে দাগি অপরাধীদের নামের তালিকা দিয়ে নির্বাচন কমিশন চিঠি দিয়েছে রাজ্যের ডিজিপিকে। কমিশন সূত্রে খবর, এখনও অবধি জামিন অযোগ্য ধারায় ৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকার দাগি অপরাধীদের ভোটের আগে পাকড়াও করার নোটিস নতুন নয়। প্রত্যেক নির্বাচনের আগেই ‘প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট’ বা সতর্কতামূলক গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত এই নির্দেশ আসে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে।তবে এ বার ছবিটা একেবারেই আলাদা। কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগেই লকআপে পুরতে হবে দাগি দুষ্কৃতীদের। যেখানে ২৩ এপ্রিল ভোট, সেখানে ১৯ তারিখ এবং যেখানে ২৯ এপ্রিল ভোট সেখানে ২৫ তারিখ রাতের মধ্যে ধরতে হবে দাগিদের, এ নির্দেশ আগেই দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার ভোটের আগে এখনও ৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরই মধ্যে খবর, রাজ্য পুলিশের ডিজিকে চিঠি দিল নির্বাচন কমিশন।
বিধানসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন প্রিসাইডিং অফিসারদের জন্য বেশ কয়েকটি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ঠিক রাখা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ইভিএমে সমস্ত প্রার্থীর বোতাম স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হওয়া উচিত। টেপ, আঠা বা অন্য কোনও উপাদান দিয়ে ইভিএমের কোনও বোতাম ঢেকে রাখা যাবে না।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারের কোনও সমস্যা যাতে না হয় বা ভোটকে যাতে প্রভাবিত না করা হয়। এই আবহে বোতামে কোনও রঙ, কালি, পারফিউম বা রাসায়নিক প্রয়োগ করা যাবে না। উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে সাম্প্রতিককালে বহু নেতা-কর্মীকে হুমকি দিতে শোনা গিয়েছে ভোটারদের। অনেক তৃণমূল নেতাই বলন, কোন ভোটার কোথায় ভোট দিচ্ছেন, তা তারা জানতে পেরে যাবেন। এই পরিস্থিতিতে ভোটারের গোপনীয়তা যাতে লঙ্ঘিত না হয়, তার জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে ইভিএমের ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম ধরা পড়ে, তাহলে প্রিসাইডিং অফিসারকে অবিলম্বে রিটার্নিং অফিসার বা সেক্টরাল অফিসারকে জানাতে হবে। কমিশন সতর্ক করে দিয়েছে, ইভিএম বোতামে যদি রং বা কিছু লাগানো হয়, তাহলে তা নির্বাচনী অবরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ক্ষেত্রে কমিশন সতর্ক করে দিয়েছে, দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এদিকে যদি কোনও বুথে এ জাতীয় ঘটনা নিশ্চিত হয়, তবে কমিশন সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণ করার নির্দেশ দিতে পারে।এদিকে কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার নন, সেই সমস্ত রাজনৈতিক কর্মী, দলীয় কর্মী এবং সমর্থকদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। এদিকে কোনও কর্মকর্তা যদি নিয়ম কার্যকর করায় শিথিলতা দেখান, অসদাচরণ বা পক্ষপাতিত্ব করেন, তাহলে গুরুত্ব অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
