
কলকাতা, ২০ জুলাই : পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে ভুরিভুরি অভিযোগ জমা পড়ছে। তার প্রেক্ষিতে, গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন বিডিও-কে তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।পঞ্চায়েত ভোটে কারচুপির অভিযোগে, ইতিমধ্যেই বিডিও-দের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে বিজেপি।
এবার ২১ জুলাই জেলায় জেলায় বিডিও অফিস ঘেরাওয়ের ডাক দিল তারা। তবে বিডিও-দের ভূমিকা নিয়ে শুধু যে বিরোধীরাই সরব, এমন নয়। এখনও পর্যন্ত ৬ জন বিডিওর থেকে রিপোর্ট তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। কাউকে কাউকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
হাবড়া ২ নম্বর ব্লকের দিঘরা মালিকবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনটি বুথে, ভোটারের চেয়ে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা অনেক বেশি। মোট ভোটার সংখ্য়া যা, ভোট পড়েছে তার থেকে প্রায় ১৬৭ শতাংশ বেশি। এই পরিস্থতিতে হাবড়া ২ নম্বর ব্লকের বিডিও-র থেকে রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
জ্যাংড়া হাতিয়াড়া দু নম্বর পঞ্চায়েতে ভোটের দিন অনেক ভোটারকে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বাধাদানকারীদের মুখে শোনা গেছিল ভোট বয়কটের অজুহাত। কিন্তু, ভোটের ফল বেরোতেই দেখা যায়। ভোট বয়কটের বুথে ভোট পড়েছে ৯৫ শতাংশ। এই মামলাতেও রাজারহাটের বিডিও-র তথ্য তলব করা হয়।
জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে শাঁখোয়াঝোড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটকেন্দ্রে ভোটের দিনই বুথের বাইরে ৪৭টি ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়। সেই ঘটনার জলও গড়ায় আদালত পর্যন্ত। ৩ অগাস্টের মধ্যে বিডিও-কে রিপোর্ট দিতে বলেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
হুগলির জাঙ্গিপাড়ায় রাস্তায় ব্যালট পেপার পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর কারণ জানতে চেয়ে জাঙ্গিপাড়ার বিডিও-কেও তলব করেছেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
ভোটগণনার দিন, হাওড়ার বালিতে গণনাকেন্দ্রের বাইরে নর্দমায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, একাধিক ব্যালট পেপার। সেগুলিতে সিপিএমের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া ছিল। এ ঘটনায় তুমুল হট্টগোল বেধে যায়।
এ নিয়ে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টেও। সেই মামলাতেও বিডিওকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেন বিচারপতি। বিচারপতির নির্দেশে আদালতে হাজিরও হন রামনগরের বিডিও।
এছাড়াও ছোট জাগুলিয়ার গণনাকেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থীকে মারধর ও গণনাকেন্দ্রের বাইরে ব্যালট পেপার উদ্ধারের অভিযোগে, বারাসাতের মহকুমাশাসককে তলব করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
