West Bengal

2 years ago

Seeuri Super Specialty Hospital:সিউড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল : এ যেন 'ঢাল নেই তরোয়াল নেই, নিধিরাম সর্দার'

Seeuri Super Specialty Hospital
Seeuri Super Specialty Hospital

 

সিউড়ি: সিউড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার চালানোর জন্য নিরাপত্তা কর্মীদের ব্যবহারের নিদান! নিদান এই রকম, বেসরকারী নিরাপত্তা কর্মীরা করবেন ওয়ার্ড বয়ের কাজ। পরিবর্ত ওয়ার্ড বয়রা যাবেন অপারেশন থিয়েটারে!

তীব্র আপত্তি নিরাপত্তা কর্মীদের। কর্মী সঙ্কটের ন্যাক্কারজনক চিত্র ফের প্রকট। ফলাফল, সুপার-নিরাপত্তা কর্মী বিবাদে উত্তপ্ত হয়েছে সিউড়ি ‘সুপার স্পেশ্যালিটি’ হাসপাতাল। সোমবার সকালে হওয়া সেই বিবাদের জেরে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন বেসরকারী নিরাপত্তা কর্মীরা। সুপারের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসতে হয়েছে খোদ সিএমওএইচ-কে। গোটা ঘটনার নির্যাস যা বেরিয়েছে এসেছে তা হল, পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে গিয়ে দফারফা অবস্থা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

সদ্য সিউড়ি সদর হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার ২৪ ঘন্টা চালু রাখার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনিতেই গোটা হাসপাতাল জর্জরিত চিকিৎসক থেকে নার্স, ল্যাব কর্মী থেকে অন্যান্য বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মীদের অভাবে। গোদের উপর বিষফোঁড়া, ২৪ ঘন্টা ও টি চালু রাখতে প্রয়োজনীয় ও টি অ্যাসিস্ট্যান্টের অভাব। তিন শিফটে ও টি চালু রাখতে প্রয়োজন কমকরে ৮ জন সহায়ক। রয়েছে মাত্র তিনজন। তা সামাল দিতে নজর পড়েছে বেসরকারী নিরাপত্তা কর্মীদের উপরই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫ জন নিরাপত্তা কর্মীকে বাছাই করা হয়েছে অন্য বিভাগে স্থানান্তরিত করার জন্য। হাসপাতাল সুপার নীলাঞ্জন মন্ডলের কথায়, ‘‘এই পাঁচ জন ওয়ার্ড বয়ের কাজ করবে। সেই জায়গায় পাঁচজন ওয়ার্ড বয়কে ও টি-তে কাজ করতে পাঠানো হবে।’’ এমন নির্দেশ পেতেই বেঁকে বসেন হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা। তারা তীব্র আপত্তি তোলেন। নিরাপত্তা কর্মী কার্তিক দাস, তরুন গড়াইয়ের অভিযোগ, ‘‘আমরা কোম্পানীর দ্বারা নিযুক্ত। কোম্পানী পরিস্কার বলে দিয়েছে সিকিউরিটির কাজ ছাড়া অন্য কোন কাজ করা যাবে না। তাছাড়াও আমরা প্রশিক্ষিত নই। কি করে আমরা ওয়ার্ডের কাজ করব। কোনও ভুলভ্রান্তি হয়ে গেলে দায় তো আমাদের ঘাড়ে এসেই পড়বে। এই কারনে হাসপাতালের সুপারকে আপত্তি জানাতে গেলে সিকিউরিটি সুপারভাইজারের সাথে দূর্ব্যবহার করেছেন সুপার। গায়ে হাত পর্যন্ত দিয়েছেন।’’ প্রতিবাদে এদিন সকালে হাসপাতালের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন নিরাপত্তা কর্মীরা। ঘটনা ঘিরে হাসপাতাল চত্বরে হুলুস্থুল পড়ে যায়। ছুটে আসেন বীরভূমের সিএমওএইচ হিমাদ্রি আড়ি। বৈঠকে বসেন সুপার সহ নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে। যদিও নিরাপত্তা কর্মীকে মারধরের অভিযোগ মানতে চান নি হাসপাতাল সুপার।

হাসপাতালের এক বরিষ্ঠ কর্মীর কথায়, ‘‘দোষ কারো নেই। সুপারের চাপ রয়েছে ও টি চালাবার। কিন্তু হাতে নেই পর্যাপ্ত কর্মী। সামাল দিতে নানা পথ নিতে হচ্ছে। অপরদিকে নিরাপত্তা কর্মীদের যুক্তিও ফেলে দেওয়ার নয়। তার খেসারতেই মাঝখানে ঘটে গিয়েছে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা।’’ নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে স্বাস্থ্যকর্তাদের বৈঠক শেষে আপাতত জোড়াতালি দেওয়া সমাধান সূত্র বেরিয়েছে। তাতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলেই আশঙ্কা সকলের।

বৈঠক শেষে হাসপাতাল সুপার বলেছেন, ‘‘আমাদের কর্মীদের সাথে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে সমস্যা মিটে গেছে। আসলে ২৪ ঘন্টা ও টি- চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের আরও সুদৃড় পরিষেবা দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। তারজন্যই কর্মী অদল বদলের প্রয়োজন হয়েছে। তাই ওয়ার্ড বয়দের যেহেতু কাজের অভিজ্ঞতা কিছুটা রয়েছে তাই তাদের ও টি-তে পাঠানোর কথা ভাবা হয়েছে। সেই জায়গায় নিরাপত্তা কর্মীদের দিয়ে পূরণ করার পরিকল্পনা হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীরা ওয়ার্ডে গিয়ে কাজ শিখে নেবেন। মোটকথা এই ২৪ ঘন্টার ও টি পরিষেবাকে সফল রূপ দিতে আমরা সর্বতভাবে চেষ্টা করছি।’’

যদিও বৈঠক শেষে কিন্তু সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় নি নিরাপত্তা কর্মীদের। পাশাপাশি স্থায়ী কর্মীর অভাবে এভাবে পরিষেবা চালুর ব্যবস্থার ভবিষ্যত নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন থেকেই গেছে।

You might also like!