
দুর্গাপুর, ১২ নভেম্বর : 'উৎপাদন কমিয়ে কালোবাজারির সুযোগ করে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। উৎপাদন না বাড়ালে চাহিদা মেটানো মুশকিল। শনিবার কাঁকসায় বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধনে এসে রাসায়নিক সার সঙ্কটে কেন্দ্রর বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তোপ দাগলেন রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার। পাশাপাশি রাজ্যের গ্রামবাংলায় ১০০ দিনের কাজের বিকল্প ব্যাবস্থার আশ্বাস দিলেন তিনি ।
প্রসঙ্গত, রাসায়নিক সার সঙ্কটে রাজ্যের আলু চাষীরা। পিছন দরাজায় চলছে অবাধে কালোবাজারি। চড়া দামে বিকোচ্ছে রাসায়নিক সার। আবার কোথাও চরম সঙ্কট ডিএপি ১০:২৬:২৬ রাসায়নিক সার। জমি তৈরী করেও আলু বীজ বসাতে বিপাকে পড়েছে রাজ্যের চাষীরা। শীতকালিন চাষের শুরুতেই মাথায় হাত পড়েছে চাষীদের। কালোবাজারি রুখতে রাজ্যের ব্যার্থতাকে দায়ী করেছে কৃষক সভা। দুই বর্ধমানের দামোদর ও অজয় নদ তীরবর্তী মানাচর অন্যতম চাষাবাদ। একই সঙ্গে বাঁকুড়ার জেলার একপ্রকার অর্থনীতির অন্যতম উৎস চাষাবাদ। বর্তমান সময়ে যেকোন চাষে রাসায়নিক সারের ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। ধান, গম সরষে থেকে শুরু করে আলু, পেয়াঁজ শীতকালিন সবরকম সব্জি চাষে রাসায়নিক ব্যাবহার অবশ্যম্ভাবী। গত বছর দফায় দফায় ঘুর্নিঝড় ও প্রাকৃতিক দুযোগে চাষে প্রচুর লোকসান হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের। তাই চলতি বছর শীতকালিন মুনাফার আশায় কোমর বেঁধে আলু চাষে নেমেছে চাষীরা। মরশুমের শুরুতেই মুলত আলু চাষ হয়। অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বর গোড়া থেকে অনুকুল আবহাওয়ায় হাসি ফুটেছিল চাষীদের। মুনাফার আশায় আলু চাষের জমি তৈরীও করে। সেই মতো অনেক চাষী আগাম বীজও কিনে নেয়। এপর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। কিন্তু, ভালো ফলনের জন্য আলু বীজ বসানোর সময় জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। মুলত ডিএপি ১০:২৬:২৬ র মতো রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে চাষীরা। যদিও ডিএপি ১০:২৬:২৬ বেশী ব্যাবহার করা হয়। তাই ওই সারের চাহিদা প্রচুর। আর ওই রাসায়নিক সার কিনতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ চাষীদের। সমবায়ে সার নেই। খোলাবাজারের সদর দরজায় সার অমিল। পিছনের দরজায় চড়া দামে দেদার বিকোচ্ছে
ডিএপি ১০:২৬:২৬ মতো রাসায়নিক সার। আবার কোথাও ম্যান ম্যাড সঙ্কট তৈরী করা হচ্ছে। রাজ্যের পুর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর সহ বিস্তীর্ণ অংশে আলু লাগানোর মরশুমে রাসায়নিক সারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, রাসায়নিক সারের সঙ্কট 'ম্যানমেড'। পিছনের দরজায় অবাধে চড়া দামে বিকোচ্ছে রাসায়নিক সার। রমরমিয়ে ‘কালোবাজারি’ চলছে বলে অভিযোগ। যেখানে ডিএপি ১০:২৬:২৬ মুদ্রিত দাম ১৪৭০ টাকা সেখানে তা বিক্রি হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকায়। অতিরিক্ত দাম নিলেও কোন ‘রসিদ’ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।আলু লাগানোর মরশুম, তাই বাধ্য হয়েই কৃষিজীবি মানুষ ওই অতিরিক্ত দাম দিয়েই ওই রাসায়নিক সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দামোদর তীরবর্তী মানাচরের চাষীদের। তাদের অভিযোগ," ভালো ফলনের জন্য আলু বীজ বসানোর আগে ডিএপি ১০:২৬:২৬ সার দেওয়া আবশ্যিক। কিন্তু, গুরুত্বপুর্ন ওই রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সঙ্কট দেখাচ্ছে সার ব্যাবসায়ীরা। আবার একটু বেশী দাম দিলেই পিছনের দরজায় পর্যাপ্ত মিলছে ওই সার। আর এই সার সঙ্কটে মাথায় হাত চাষীদের। তাই নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে রাজ্যের ব্যার্থতা ও নজরদারিকে দুষছে বামফ্রন্ট ও বিজেপি। সিপিএমের কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক অমল হালদার বলেন," বামফ্রন্টের সময় সমবায় মাধ্যমে রাসায়নিক সার বিক্রি হত। গরিব মানুষ ঋণ পেত। এখনকার সরকার সেসব সমবায় ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। সমবায়ের বদলে ব্যাবসায়ীদের মাধ্যমে সার বিক্রি হচ্ছে। ম্যানম্যড কৃত্রিম সঙ্কট তৈরী করা হয়েছে। তার জেরে কালোবাজারি বাড়ছে। সারের কালোবাজারি রুখতে রাজ্য সরকার ব্যার্থ।"শনিবার কাঁকসা পঞ্চায়েতের একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ছিল। এদিন পানাগড় মিত্র সঙ্ঘ মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। এদিন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। কেন্দ্রের ১০০ দিনের অনুদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন," রাজ্য ১০০ দিনের কাজের বিকল্প চিন্তাভাবনা করেছে। তবে কেন্দ্রের আর কোন সংশয় নেই। কেন্দ্রের অনুদানও আসবে আশা করছি।" রাসায়নিক সারের কালোবাজারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন," সারা ভারতবর্ষে আলু উৎপাদনে আমাদের রাজ্য দ্বীতিয়। রাজ্যে ১০:২৬:২৬ সার জনপ্রিয়। কিন্তু এই সারের উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ফলে বাজারে কালোবাজারি করতে সহায়তা করেছে। প্রয়োজনীয় সারের উৎপাদন কমিয়ে কালোবাজারিদের সাহায্য করেছে। পাশাপাশি উৎপাদন কমিয়ে রাজ্যকে বঞ্চনা করছে।" তিনি আরও বলেন," কালোবাজারি রুখতে কৃষি দফতর ও এনফোর্সমেন্ট বিভাগ ঘুরছে। তবে উৎপাদন না বাড়ালে চাহিদা মেটানো মুশকিল।"
