
কাকদ্বীপ, ২৪ জুন: কিছু মৎস্যজীবীর উদাসীনতায় ইলিশের বংশ ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বিচারে ছোট ইলিশ ধরা হচ্ছে। এর ফলে আগামীদিনে বড় ইলিশ মিলবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। খোকা ইলিশ ধরার উপরও যখন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাহলে কিভাবে এই ছোট ইলিশ ধরা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সামুদ্রিক মৎস্য দফতরের তরফে মাইকিং করে সচেতন করার কাজ চলছে মৎস্যজীবীদের।
এক সপ্তাহ আগে থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরার মরসুম। কিন্তু মরসুমের শুরুতেই বেআইনী ভাবে ছোট ছোট ইলিশের বাচ্চায় ছেয়ে গেছে গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা। ডায়মন্ড হারবার, কাকদ্বীপ, নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জের বাজার ও মাছের আড়তে দেদার বিকোচ্ছে এই শিশু ইলিশ। এক একটি ইলিশের ওজন পঞ্চাশ গ্রামেরও কম। এই ছবি ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্রবাজারে মাছের আড়ত থেকে কাকদ্বীপের বাজারেও। বাজারে এই মাছের চাহিদা কম থাকায় আবার অনেকেই নদীর চরে ফেলে দিয়ে নির্বিচারে হত্যা করছে এই শিশু ইলিশকে। এরকম চলতে থাকলে আগামীদিনে ইলিশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি নিয়ম মতে পাঁচশো গ্রামের কম ওজনের ইলিশ ধরা ও বিক্রি করা আইনত অপরাধ। মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বছরভর প্রচারও করা হয়। কিন্তু বছরের পর বছর সরকারি নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে চলছে ছোট ইলিশ ধরা। এক শ্রেণির ট্রলার মালিক প্রকাশ্যে এই বেআইনী কাজ করে চলেছে বলেও অভিযোগ। ইতিমধ্যে এবারের ছোট ইলিশ বাজার ছেয়ে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে মৎস্য দপ্তর। কাকদ্বীপ, নামখানা মৎস্য বন্দরে চলছে মাইক প্রচার। মৎস্যজীবী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে এই প্রচার। সামুদ্রিক মৎস্যজীবী ইউনিয়নের নেতৃত্ব বিজন মাইতি, সতীনাথ পাত্র মৎস্যজীবীদের ছোট ইলিশ না ধরার আবেদন করেছেন। জেলার সহ মৎস্য অধিকর্তা ( সামুদ্রিক) পিয়াল সর্দারও ছোট ইলিশ ধরার কথাটা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আমরা প্রচার করছি। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তল্লাশি চালাব। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
