
রায়গঞ্জ, ৩ মে : রায়গঞ্জের বিধায়ক তথা বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান কৃষ্ণ কল্যাণীর বাড়িতে আয়কর হানা। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে ফেলে বিধায়কের বাড়ি ও অফিস। আর্থিক হিসেবে গোলমাল ও আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই অভিযান।
খাতায় কলমে তিনি বিজেপি বিধায়ক। তবে এখন তৃণমূলে রয়েছেন। সেই রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর বাড়িতে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার সকালে বিধায়কের বাড়িতে যান ইডি আধিকারিকরা। একটি দল অফিসেও হানা দেয়। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, কৃষ্ণের ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য জানতেই এই অভিযান। পরে জানা যায়, ওই অভিযানে রয়েছেন আয়কর দফতরের আধিকারিকেরাও।
২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে রায়গঞ্জ বিধানসভা থেকে জয়ী হন কৃষ্ণ। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। জনপ্রতিনিধি কৃষ্ণ ব্যবসায়ীও বটে। তাঁর একাধিক ব্যবসা রয়েছে। ওই ব্যবসা সংক্রান্ত কিছু তথ্য জানতে কৃষ্ণের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। তাঁর বাড়ির চারপাশে দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। এখনও এ নিয়ে বিধায়কের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি
তিনি বিজেপিতে থাকাকালীন এই অভিযোগে সরব হয়েছিলেন জেলার তৃণমূল নেতা কানাইলাল আগরওয়াল। জেলাশাসকের দ্বারস্থও হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে শিবির বদল করেন কৃষ্ণ কল্যাণী। কানাইলাল আগরওয়ালের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলে যোগ দেন। এরপর আর সেই অভিযোগ নিয়ে বিশেষ নাড়াচাড়া হয়নি। গতবছর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির পর কৃষ্ণ কল্যাণীকে তলব করেছিল ইডি। একটি টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপনে অর্থ ব্যয় ও আয়কর ফাঁকি-সহ বহু অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এরপর দীর্ঘদিন পেরিয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই অভিযানের পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। তাঁরা বলছেন, এখন উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রায়গঞ্জ ঘুরে গিয়েছেন। তৃণমূলে নবজোয়ার কর্মসূচিতে তাঁর জনভিত্তির প্রমাণ পেয়েছেন সবাই। এ সব দেখে বিজেপি ভয় পেতে শুরু করেছে। তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দিয়ে এই অভিযান। যদিও এই পুরো অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির।
