
দুর্গাপুর: পঞ্চায়েত দখল করেও শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল অব্যাহত। দলের নির্দেশিকাকে উপেক্ষা করে বোর্ড গঠনে ভোটাভুটি। আর তাতেই বাজিমাত বিক্ষুব্ধ তৃৃণমূল সদস্যদের। একাধিক পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধান পদে জয়ী হল তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ জয়ী সদস্যরা। এমনই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটেছে বুদবুদ, মানকর, চাকতেঁতুল, উখড়া সহ বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতে। আবার দেশজুড়ে বামেদের সঙ্গে তৃণমূলের ইন্ডিয়া জোট নিয়ে যখন জোর জল্পনা। তখন, অন্ডালের খান্দরায় সিপিএমের সমর্থনে তৃণমূলের উপপ্রধান জয়ী হল।
সঙ্গত, রাজ্যে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়েছে। তারপরও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। নির্বাচন রায়দান এখনও আদালতে ঝুলে। তার মাঝে পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনের তৎপরতা শাসকদল তৃণমূলের। ১০ আগস্ট রাজ্যজুড়ে বোর্ড গঠনের দলকে নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মত বৃহস্পতিবার শিল্পাঞ্চলের অন্ডাল, পান্ডবেশ্বর, লাউদোহা, কাঁকসা, গলসী-১ ব্লক সহ একাধিক পঞ্চায়েত ছিল বোর্ড গঠন। দলের আন্তকলহ রুখতে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব কড়া নির্দেশিকা জারি করে। তাতে স্পষ্ট উল্লেখ করে দেয়, দলের মনোনিত তালিকা বদল হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। সেইমতো একদিন আগে তারিখ জেলা থেকে ব্লক নেতৃত্ব ও অঞ্চলে পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানদের নামের তালিকা চলে আসে। দলের কঠোর নির্দেশিকাকে কার্যত বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ভোটাভুটি পথে হাঁটল জয়ী তৃণমূল প্রার্থীরা। আর তাতেই বাজিমাত বিক্ষুব্ধ জয়ী তৃণমূল প্রার্থীদের। গলসী-১ নং ব্লকের বুদবুদ পঞ্চায়েতের ২৩ টি আসনের মধ্যে ২০ টি আসনে তৃণমূল জয়ী হয়। তালিকা মত প্রধানের নাম ছিল ঝুমা ওরাঁ ও উপপ্রধানের নাম ছিল অধির চ্যাটার্জী। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বোর্ড গঠনে পঞ্চাায়েতে আসে জয়ী সদস্যরা। অশান্তি রুখতে ছিল ১৪৪ ধারা জারি ও কড়া পুলিশ পহরা। প্রস্তাব উঠতেই ভোটাভুটির দাবী ওঠে তৃণমূলের জয়ী সদস্যদের একাংশের। নিয়ম মেনেই শুরু হয় ভোটাভুটি। তাতে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে প্রধান হয় বিজলা বাগদী ও উপপ্রধান হয় রুদ্রপ্রসাদ কুন্ডু। একইরকম পরিস্থিতি মানকর পঞ্চায়েতে। সেখানের দলের তালিকায় প্রধান পদে নাম ছিল মামনি রায় ও উপপ্রধান পদে নাম ছিল সুরজিত বাউরি। কিন্তু পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনে প্রস্তাব উঠতেই ভোটাভুটির দাবী ওঠে জয়ী সদস্যদের একাংশের। নিয়ম মেনেই শুরু হয় ভোটাভুটি। তাতে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে প্রধান হয় ডালিয়া লাহা ও উপপ্রধান হয় তন্ময় ঘোষ। আবার চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতে ১৭ টি আসনের মধ্যে ১৩ টি তৃণমূল ও ৪ টি আসনে বিজেপি জয়ী হয়। তৃণমূলের দলের তালিকায় প্রধানের নাম ছিল নিয়তি মাজি ও উপপ্রধান নাম ছিল বসির আলি কাজি। কিন্তু পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনে প্রস্তাব উঠতেই ভোটাভুটির দাবী ওঠে তৃণমূলের জয়ী সদস্যদের একাংশের। নিয়ম মেনেই শুরু হয় ভোটাভুটি। তাতে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে প্রধান হয় অনুপ মেটে। তবে উপপ্রধান তালিকা থাকা বসির আলি কাজির পক্ষে বেশী ভোট যায়। তবে কাঁকসা ব্লকের চারটি পঞ্চায়েতে দলের নির্দেশ মেনে সমর্থন উঠলেও, গোপাল পঞ্চায়েতে ভোটাভুটি হয়। সেখানে পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনে প্রস্তাব উঠতেই ভোটাভুটির দাবী ওঠে তৃণমূলের জয়ী সদস্যদের একাংশের। নিয়ম মেনেই শুরু হয় ভোটাভুটি। তাতে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে প্রধান হয় সুনন্দা রায় মাহান্তি ও উপপ্রধান হয় গনেশচন্দ্র মন্ডল। আবার দেশজুড়ে বামেদের সঙ্গে তৃণমূলের ইন্ডিয়া জোট নিয়ে যখন জোর জল্পনা। তখন, অন্ডালের খান্দরায় সিপিএমের জয়ী সদস্যের সমর্থনে তৃণমূলের উপপ্রধান জয়ী হল। যদিও এদিন ভোটাভুটি তে খান্দরা পঞ্চায়েতে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল চরমে ওঠে। সেখানে ২৩ আসনের মধ্যে ২০ আসনে তৃণমূলের ও ৩ টি বামেদের দখলে ছিল। এদিন পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনে প্রস্তাব উঠতেই ভোটাভুটির দাবী ওঠে তৃণমূলের জয়ী সদস্যদের একাংশের। নিয়ম মেনেই শুরু হয় ভোটাভুটি। তাতে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে প্রধান হয় অপর্না বাদ্যকর। আবার সিপিএমের সমর্থন পেয়ে উপপ্রধান হয় গনেশ বাদ্যকর। আবার উখড়া পঞ্চায়েতের ২৭ টি আসনেই জয়ী হয় তৃণমূল। কিন্তু তবুও বোর্ড গঠনে গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে। দলের তালিকায় প্রধান পদে নাম ছিল নিশিথ মন্ডল। কিন্তু, ভোটাভুটির সময় একাধিক দাবিদার ওঠে। শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির সংখ্যা গরিষ্ঠতায় মিনা কোলে নামে এক জয়ী তৃণমূল সদস্য জয়ী হয়। বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি ছোটন চক্রবর্তী বলেন," কাটমানির নেশায় তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল আবারও প্রকাশ্যে চলে আসে। আবার বোর্ড গঠন করতে বামেদের সমর্থন নিতে হল তৃণমূলকে। অন্ডালের সিঁদুলিতে সিপিএমের সমর্থনে উপপ্রধান হয়েছে তৃণমূলের জয়ী সদস্য।"
তবে এদিনের বোর্ডগঠনে দলের নির্দেশিকা অমান্য ও শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্য আসা প্রসঙ্গে তৃণমূলের গলসী-১ নং ব্লকের সভাপতি জনার্দ্দন চট্টোপাধ্যায় বলেন," কোনরকম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। এদিনের ঘটনা দলের জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দল নেবে।"
