West Bengal

3 years ago

এনসিসি-র তহবিল বিতর্ক নিয়ে তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করলেন দিলীপ ঘোষ

Dilip Ghosh
Dilip Ghosh

 

কলকাতা, ২৭ অক্টোবর : ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস (এনসিসি)-রতহবিল বিতর্ক নিয়ে তৃণমূল সরকারকে তুলোধোনা করলেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি মনে করে তাদের পার্টির নেতাদের মত সবাই চরিত্রহীন আর চোর হোক, তাহলে এখানে এনসিসি বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

রাজ্যের অনুদান বন্ধ। বাংলায় চরম সমস্যায় এনসিসি। ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস (এনসিসি)-এর দায়িত্বে থাকা কম্যান্ডিং অফিসার চিঠি করেছেন ডিজি এনসিসিকে। এবার এই ইস্যুতে সরব বিরোধীরা। মুখ খুললেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। দিলীপ ঘোষের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এনসিসি ক্যাডারদের টাকা আটকে দিল রাজ্য। ফলে, এনসিসি প্রশিক্ষণ বন্ধ হয়ে গেলে এখানে কি কেন্দ্র সরকারের অগ্নিবীর প্রকল্প ব্যাহত হবে? এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেনা,আধা সেনা এতে যে নিয়োগ হয় সব এনসিসি থেকে যায়। নাহলে সবাই এনসিসি করে না। তার জন্য আলাদা সিস্টেম আছে। বহু বছর ধরে মনে হয়েছে সরকারের স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের যুবকদের যুবতীদের দেশ প্রেম ও নিয়মানুবর্তিতার প্রশিক্ষণ হওয়া উচিত। তাই কোটি কোটি টাকা খরচা করে স্কুল জীবন থেকে ডিসিপ্লিন আনার চেষ্টা হয়। আর এটা বড় অভিযান হিসাবে চলছে। সেনা লোকেরা এসে প্রশিক্ষণ দেন, সেই জন্য সারাদেশে এটা চলছে। বহু ছেলে মেয়ে উপকৃত হয়।”

রাজ্য সরকারকে বিঁধে দিলীপ ঘোষের সংযোজন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি মনে করে তাদের পার্টির নেতাদের মত সবাই চরিত্রহীন আর চোর হোক, তাহলে এখানে এনসিসি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। সেই জন্য বোধহয় করছে। এনসিসি করলে কেউ মা মাটির ঝান্ডা ধরবে না সেইজন্য হয়তো বন্ধ করে দিচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, বুধবার থেকেই একটি বিষয় ভীষণভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। রাজ্য সরকার যে এনসিসি-র অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, তা প্রকাশ্যে আসতেই সরব বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই কমান্ডিং অফিসার ৬ বার তদ্বির করে রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, কোষাগার ফাঁকা, সেই কারণে টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মূলত এনসিসি-তে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে অনুদান দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের তরফেও কিছু শতাংশ অনুদান দেওয়া হয়। সেই অনুদানই বন্ধ। গত মার্চ-এপ্রিল মাসে মাত্র ৮০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে। ফলে এনসিসি ক্যাডাররা চরম সমস্যায় পড়েছেন। যেখানে এনসিসি-র ফান্ডে বছরে পাঁচ কোটি টাকার অনুদান দেওয়ার কথা। ক্যাম্পিংও করতে পারছে না এনসিসি। মুখ্যসচিব, অর্থসচিবকে চিঠি দিয়েও সাড়া না মেলায় ডিজি-র কাছে নালিশ ঠুকেছেন এনসিসি-র কমান্ডিং অফিসার। যদিও তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের দাবি, “কেন আটকে গিয়েছে, তা আমি জানি না। যেটা জানি না, সেটা নিয়ে বলা ঠিক হবে না। তবে নীতিগতভাবে তো রাজ্য সরকার চায় না, এনসিসি বন্ধ হয়ে যাক।”


You might also like!