West Bengal

3 years ago

Siliguri : বালি তুলতে গিয়ে ধসে দুই নাবালক-সহ তিন জনের মৃত্যু শিলিগুড়িতে

died in Siliguri when they collapsed while picking sand
died in Siliguri when they collapsed while picking sand

 

শিলিগুড়ি, ৬ মার্চ : বালি তুলতে গিয়ে ধসে মৃত্যু হল ৩ জনের। সোমবার এই ঘটনা ঘটেছে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের মাটিগাড়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বালাসন নদী থেকে বালি তুলতে গিয়ে নামে ধস। তার জেরেই ঘটে বিপত্তি। নিহতদের তিন জনের মধ্যে রয়েছেন দুই নাবালক। মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

রাতের অন্ধকারে বালি চাপা পড়ে মৃত্যু হয় এই ৩ জনের। সোমবার ভোর রাতে শিলিগুড়ির মাটিগারার বানিয়া খারি ত্রিপালি জোত এলাকার ঘটনাটি ঘটেছে৷ যার জেরে এলাকায় নেমে এসেছে তীব্র শোকের ছায়া৷ ঘটনায় মৃতরা হল রোহিত সাহানি, শ্যামল সাহানি ও মুনু কুমার। এর মধ্যে রোহিত সাহানি ও শ্যামল সাহানি নাবালক। তাদের দুজনেরই বয়স ১৫। আর মুনুর বয়স ২০। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাটিগাড়া থানার পুলিশ৷ তারপরেই মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে৷

কাজ না থাকায় পেটের জ্বালায় ভোর রাতে নদী থেকে বালি পাথর চুরি করতে গিয়েছিল ওই তিনজন ৷ স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রতিদিনের মতো মনু, রোহিত এবং শ্যামলেরা ভোর রাতে বালাসন নদীর পারে গিয়েছিল নদী থেকে বালি তুলতে। নদীর পারে পাথর বালি কাটার সময় আচমকাই ধস নামে। একে অন্ধকার, তার ওপর ধস। আত্মরক্ষার কোনও সুযোগ ছিল না তাদের কাছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা৷ তাঁদের দাবি, নদীর ঘাট চালুর জন্য তাঁরা, প্রশাসনকে বার বার অনুরোধ করেছে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। যার ফলে অকালে তিনটে প্রাণ চলে গেল।

সূত্রের খবর, রোহিত বিহারের সীতামারির বাসিন্দা। শিলিগুড়িতে দাদুর বাড়িতে ঘুরতে এসেছিল সে। ভোরে অন্যদের সঙ্গে বালি তুলতে গিয়ে প্রাণ হারায় সে। নদী থেকে বালি তুলে বালির পাহাড়ের মতো স্তূপ করে রাখা হয়। সেই উঁচু ঢিপি থেকে বালি কাটার সময় আচমকা উপর থেকে বালিপাথর হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সকলের।

গণেশ সাহানি নামে রোহিতের এক আত্মীয় বলেন, ‘‘রাত ২টো থেকে বালি কাটার কাজ চলছিল। বাচ্চাদের সেখানে যেতে বারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ও শোনেনি। গাড়ি মালিক নরেশ সাহানি বাচ্চাদের বলেছিল, ‘‘ভোরবেলা কাজ না করলে টাকা দেবে না। সেই লোভে গিয়েই এই ঘটনা ঘটেছে। বালিঘাট এখন বন্ধ। অবৈধ ভাবে বালি তোলার কাজ চলছিল।’’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব এবং পুলিশ-প্রশাসনের কর্তারা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


You might also like!