
কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বর : সোমবার ভারতীয় জনতা পার্টির প্রাণ পুরুষ তথা মার্গদর্শক ও একাত্ম মানবতাবাদের স্রষ্টা পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ১০৮ তম জন্মদিবস অর্থাৎ সমর্পণ দিবসে, বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি ও প্রণাম জানালেন বিজেপি-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী।
অমিতাভবাবু এক্স টুইটারে লিখেছেন,“আজ পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্ম দিবস। ১৯১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এই মহান কর্মযোগী। একাধারে তিনি ছিলেন সুলেখক, দার্শনিক অন্যদিকে রাজনীতিবিদ। ভারতমায়ের এই মহান সন্তান শৈশবকালেই পিতৃমাতৃহীন হন। তাঁর পৈতৃক ভিটে উত্তরপ্রদেশের মথুরাতে হলেও স্কুলজীবনের বড় অংশ অতিবাহিত হয়েছিল রাজস্থানে। জাতীয়তাবাদী এই দেশনেতা অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন নিজের ছাত্রজীবনে।
রাজস্থানের 'সিকার' থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা দেন এবং প্রথমস্থান অধিকার করেন। তৎকালীন সিকারের মহারাজা কল্যাণ সিংহের কাছ থেকে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত হন। সনাতন ধর্ম কলেজে স্নাতক স্তরে পড়াকালীন তাঁর বন্ধু বলবন্ত মহাশব্দের হাত ধরে ১৯৩৭ সালে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সংস্পর্শে আসেন।
১৯৪২ সালে দেশ ও সমাজের কাজকে নিজের জীবনব্রত করার লক্ষ্যে সঙ্ঘের প্রচারক হন। ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার পরে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি হন।১৯৬৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রয়াত হন।
'একাত্ম মানববাদ' বিচারধারার তিনিই প্রণেতা ছিলেন। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় বলতেন, "ভারতবর্ষে জাতীয়তাবোধের ভিত্তি হল ভারত মাতা, যদি মাতা শব্দটা সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে শুধু ভারত, মাটির টুকরো হয়েই পড়ে থাকবে"।
পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মতে প্রতিটি মানুষের সম্পূর্ণ গঠন হয় চারটি উপাদানের ভিত্তিতে এগুলি হল শরীর, মন, বুদ্ধি এবং আত্মা। এই চারটি উপাদানের সঙ্গে ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ এই চারটি বিষয় সম্পর্কিত। ধর্ম হলো ভিত্তি এবং মোক্ষ হল হল সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। অন্যান্য মতাদর্শ যেখানে শুধুমাত্র মন এবং শরীরের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের কথা বলে সেখানে একাত্মমানববাদে ধর্ম এবং মোক্ষেরও ধারণা দিয়েছেন তিনি।
ধর্ম সম্পর্কে তিনি বলতেন, "পাশ্চাত্যের রিলিজিয়ন এবং ভারতের ধর্ম এক নয়"। ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে ধর্ম হল ধর্ম, তার আলাদা কোনও নাম নেই, অর্থাৎ ছাত্র ধর্ম, ক্ষত্রিয় ধর্ম, পিতৃ ধর্ম, মাতৃ ধর্ম এসব কিছুই ধর্মের মধ্যে পড়ে। তিনি আরও বলতেন, "ধর্ম হচ্ছে ব্যাপক এবং বিস্তৃত। সমাজকে সংগঠিত করতে ধর্ম খুবই গুরুত্বপূর্ণ"।
নীতিনিষ্ঠ এবং মূল্যবোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস রাখতেন পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়। তিনি মনে করতেন, সুযোগ সন্ধানী এবং সুবিধার রাজনীতি, দিনের পর দিন চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের রাজনীতির ওপরেই বিশ্বাসটা উঠে যায়।
