
কোচবিহার, ২৮ ফেব্রুয়ারি : পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে সংবিধান মনে করিয়ে দিতেই কোচবিহারে আসা’, মঙ্গলবার সকালে নিউ কোচবিহার স্টেশনে দাঁড়িয়ে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কনভয় ঘিরে বিক্ষোভের তিনদিন পর দিনহাটায় গেলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। সেখানে সুকান্ত বলেন, “বিজেপির কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে। মন্ত্রীর উপর হামলা হচ্ছে। অথচ এসবের পরেও বেছে বেছে বিজেপির কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করছে। পুলিশকে সংবিধান মনে করাতেই আমার কোচবিহারে আসা। পুলিশকে সংবিধান মনে করাব আজ।” শনিবার দিনহাটায় এক কর্মসূচি ছিল কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের। সেখানেই তাঁর কনভয় ঘিরে ইটবৃষ্টি, বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে সামনে রেখে শুরু হয় তরজা। তার তিনদিন পর মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান তিনি। যদিও সুকান্তের এই সফর ঘিরে কটাক্ষের সুর শোনা গিয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহর গলায়। তাঁর বক্তব্য, আক্রান্ত হয়েছেন তৃণমূলেরই কর্মীরা। তাই তাঁদের সঙ্গেই দেখা করা দরকার।
একইসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, এদিন যদি তাঁকে কোনওরকম বাধার মুখে পড়তে হয়, তা হলে সেই বাধা অতিক্রম করেই যাবেন তিনি। যদিও সুকান্তের এই দিনহাটা যাওয়া নিয়ে মন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, “যারা আক্রান্ত তাদের বাড়ি গেলে তো তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে যাওয়া দরকার। আক্রান্ত তো তৃণমূল কর্মীরা। তাদের বাড়িতে যাবেন তো উনি? বিজেপির কেউ তো আক্রান্ত হয়নি। কেউ এলে তো না করব না। ঘুরে আসুক। স্থানীয় লোকরা ওনার সঙ্গ দেবেন কি না জানি না।”
সুকান্তর দিনহাটা সফর নিয়ে যখন রাজনৈতিক তরজা চলছে, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, “তৃণমূল-বিজেপির নাম করে এই দুষ্কৃতী দাপাদাপি, এটা কখনওই ভাল হচ্ছে না। খুবই খারাপ হচ্ছে। আইনে কোনও শাসন না থাকলে যা হয়, তাই হচ্ছে। সারা রাজ্যে দুষ্কৃতীর দাপাদাপি চলছে। দিনহাটার ঘটনায় তা স্পষ্ট বোঝা গেল।”
