Breaking News
 
Vivekananda Merit Scholarship :শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ, মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য চালু হল বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ Chief Minister Suvendu Adhikari : র্নীতি ও কাটমানি খতিয়ে দেখতে কমিশন গড়লেন শুভেন্দু, সঙ্গে নারী নির্যাতন নিয়েও আলাদা কমিশন CM Suvendu Adhikari starts Janatar darbar : সল্টলেকে বিজেপি দফতরে শুভেন্দুর ‘জনতার দরবার’, জনতার সমস্যা শুনে মিলল স্বস্তি Suvendu Adhikary: “কাশ্মীরে বন্ধ হয়েছে, এখানেও হবে”—পার্ক সার্কাসে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি ,গ্রেফতার ৪০ Suvendu Adhikari :রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়, আর জি কর ইস্যুতে স্বাস্থ্যসচিবকে জরুরি তলব মুখ্যমন্ত্রীর Annapurna Bhandar : অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার স্কিমে নতুন ঘোষণা, ১ জুন থেকেই ৩ হাজার টাকা পাবেন নির্দিষ্ট উপভোক্তারা

 

West Bengal

2 years ago

Shootout at Dinhata: দুষ্কৃতী তাণ্ডবে চললো গুলি মৃত ১ আহত ৭! রং লাগল রাজনীতির

Shootout at Dinhata! dead 1, injured 7! The color of politics (File Picture)
Shootout at Dinhata! dead 1, injured 7! The color of politics (File Picture)

 

শিল্পী দত্ত, কোচবিহার, ২৭ জুন ২৩ : আবারও গুলি। তবে এবার একরকম হিন্দি সিনেমার মত। মঙ্গলবার ভোররাতে দিনহাটা এক নং ব্লকের গিতালদহ ২ নং অঞ্চলের জারিধরলা দরিবস এলাকায় দুষ্কৃতি তাণ্ডব। ‌  ঘটনায় চলল গুলি। গুলিতে মৃত এক আহত সাত জন। এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল এলাকা। ‌ ঘটনার পর ঘটনাকে নিয়ে চলল রাজনৈতিক চাপানোত্তর। ‌ মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনার পর স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগ করেন - বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে এবং মৃত ব্যক্তি তৃণমূল সমর্থক। মৃত ব্যক্তির নাম বাবু হক। প্রসঙ্গত জারি ধরলা এলাকা বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা এবং এই এলাকা যাবার আগে শিঙ্গিজানি নদী রয়েছে।

বিএসএফের বোটে করে নদী পার হয়ে তারপর জারিধরলা এলাকায় যেতে হয়। এই এলাকার সাথে বাংলাদেশের দূরত্ব খুবই সামান্য এবং নেই কোন কাটাতার ফলে খুব সহজেই দুষ্কৃতীরা এপার ওপার করতে পারেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ঘটনা নিয়ে শুরু হয় চরম রাজনৈতিক চাপানোত্তর। আহত ব্যক্তিদের প্রথমে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের কোচবিহারের রেফার করা হয় কোচবিহারের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আহত এক ব্যক্তিকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ‌ রাজ্জাক হোসেন নামে ওই ব্যক্তি বর্তমানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।  কোচবিহারের বেসরকারি হাসপাতালে আহতদের দেখতে আসেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায় এবং কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। একরাশ খুব উপরে দিয়ে পার্থপ্রতিম রায় বলেন এরা সকলেই বাংলাদেশের দুষ্কৃতি এবং বিজেপি এদেরকে নিয়ে এসে তাণ্ডব চালাচ্ছে। আমাদের এক তৃণমূল কর্মী মারা গেছেন ও বাকি সাত জন গুরুতর আহত হয়েছেন যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন - গুলি কি উপর থেকে চলেছে ? গুলি চালিয়েছে, বিজেপি আশ্রিতো দুষ্কৃতীরা কোচবিহারে বিজেপির মন্ত্রী ও বেশ কিছু নেতা বাংলাদেশ থেকে দুষ্কৃতীদের এনে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আরো বলেন জারিধরলা গ্রামে যেখানে তান্ডব হয়েছে সেই জায়গাটি জিরো পয়েন্টের এক কথায় বলা যায় প্রায় বাংলাদেশ সেখানে নেই কোন ফেন্সিং । পাহারা দেয় বিএসএফ কি করে বিএসএফের সামনে এই ঘটনা ঘটলো ? তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন দেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাড়িতে দুষ্কৃতীদের আশ্রয়স্হল।

বোম বোমা বন্দুকের ভান্ডার এমনকি তিনি বলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাড়িতে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন রাজ্যপাল বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন কোচবিহারে আসুন এসে দেখুন কারা অশান্তি করে বেড়াচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন রাজনৈতিক রঙ না দেখে যদি আপনার সৎ সাহস থাকে। যদিও এই সমস্ত তথ্য উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দিনহাটার বিজেপি নেতা অজয় রায় বলেন - যার মৃত্যু হয়েছে সে একজন পাচারকারী আর যাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে তারা প্রত্যেকেই মাদক পাচারের সাথে যুক্ত এর সাথে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। এই প্রসঙ্গে বিজেপির নাটাবাড়ির বিধায়ক মিহির গোস্বামী বলেন - দিনহাটায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর সাহায্যে বিভিন্ন পাচারকারীরা অবাধে যাতায়াত করে ভারত বর্ষ আর বাংলাদেশ তাদেরকে বাধা দিতে গেলেই তারা বিএসএফের উপর দোষারোপ করেন। বিজেপির উপর দোষারোপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন বাংলায় আইনের শাসন চলেনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শাসকের শাসন চলে সারা রাজ্য জুড়ে তারা অশান্তি করছে মানবাধিকার কমিশনের সেই কথা বলছে সুতরাং মিথ্যা দোষারোপ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে লাভ নেই তাদের শেষের সময় চলে এসেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন কোচবিহারের জেলা শাসক কে ফোন করে এই ঘটনা সম্বন্ধে সম্পূর্ণ রিপোর্ট চেয়ে পাঠান।

ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কোচবিহারের পুলিশ সুপার সুমিত কুমার এবং তার সঙ্গে যান সিতাই কেন্দ্রের বিধায়ক জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। কোচবিহারের পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন - ঘটনায় দুষ্কৃতি যোগ রয়েছে। যেই জায়গায় এই ঘটনা হয়েছে সেই জায়গায় কোন ফেন্সিং নেই একদম বাংলাদেশ সীমান্ত তাই দুষ্কৃতীরা ঘটনা ঘটিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছেন। আমরা বিএসএফ এবং বিডিআরের  সাথে কথা বলে দুষ্কৃতীদের ধরার ব্যবস্থা করা যায়। তবে পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে ফেরার পর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন যে এই ঘটনায় যারা মৃত বা আহত তাদের রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কিনা সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন-  কেউ অরাজনৈতিক নয়।  প্রাথমিকভাবে যেটা জানা গেছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তৃণমূলের উপর আক্রমণ করে ওপাশে পালিয়ে গেছে। ফলে সম্পূর্ণ ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানোত্তর। তবে প্রশ্ন উঠছে, যেভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত চরম সন্ত্রাসের ছবি দেখছে দিনহাটা সহ কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকা তাতে কিভাবে সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ? প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় ? জেলায় এত বিপুল পরিমাণ বোমা বন্দুক এলো কোথা থেকে ? পুলিশ প্রশাসনের কাছে কি কোনই খবর ছিল না ? কেনই বা বারবার রাজনৈতিক সংঘর্ষে মৃত্যু হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মীদের এর দায় কার। তবে ঘনঘন  বন্দুকের গুলি আওয়াজে এবং বোমার ধোঁয়ায় আতঙ্কে প্রহর গুনছেন সাধারণ মানুষ।  এই পরিস্থিতির মধ্যে কোন অবস্থাতেই শান্তিপূর্ণ পঞ্চায়েত নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মত ওয়াকিবহল মহলের। যদিও এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা আটকের খবর নেই। কবে ফিরবে শান্তি উত্তরের অপেক্ষায় কোচবিহারবাসী।


You might also like!