
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ কথায় বলে শেখার কোনো বয়স হয় না, কেবল ইচ্ছেটা থাকা দরকার। সংসারের হাল ধরতে গিয়ে ডিগ্রি অর্জনের স্বপ্নটা অধরাই রয়ে গিয়েছিল রায়গঞ্জের বীথিকা দাসের, কিন্তু হাল ছেড়ে দেননি তিনি। জেদ আর সংকল্পের উপর ভর করে ৪৫ বছর বয়সে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করলেন তিনি।
রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করলেন প্রায় ৪৫ বছর বয়সে। বয়স যে একটা সংখ্যামাত্র, তা শুধুমাত্র কথায় নয়, কাজেও করে দেখানো যায়। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, পড়াশোনার কোনও বয়স হয় না। সেই লক্ষ্যেই অবিচল ছিলেন তিনি। রান্না-বান্না, সাংসারিক নানা কাজের ফাঁকে মুখ গুঁজে দিতেন পড়ার বইয়ে। চলত অনুশীলন। অধ্যবসায়ের জোরেই সাফল্য পেলেন তিনি। বাড়িতে কুকুর, বিড়াল, গোরু, ছাগল, মুরগি, হাঁস, কোকিলের সহাবস্থান, পড়ার মাঝে সময় পেলেই চলত তাদের যত্নাত্তি।
জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জের চাপদুয়ার এলাকার বাসিন্দা বীথিকা দাস। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার ওপর প্রবল আগ্রহ ছিল তাঁর। কিন্তু মাঝে নানান রকম প্রতিকূল অবস্থার জেরে ছেদ পড়ে পড়াশোনায়। সংসারের হাল ধরতে হয় তাঁকে। এরপর বয়স বেড়ে চললেও পড়াশোনার প্রতি তার উৎসাহ বাড়তে থাকে। সিদ্ধান্ত নেন উচ্চশিক্ষার জন্য স্নাতকে ভর্তি হওয়ার। সেইমত ভর্তিও হন কলেজে। স্নাতক সম্পন্ন হওয়ার পর ভর্তি হন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে। সংসার সামলে প্রতিদিন নিয়ম মেনে রুটিন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠ নিয়েছেন তিনি। পরীক্ষায় বসে পাশও করলেন। গত ১২ই ডিসেম্বর স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন বিথীকা দেবী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট, ছোট ভাই-বোনের সঙ্গে নিয়মিত ক্লাস করেছেন তিনি, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছেন সাহায্য ও।
বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার ডঃ দুর্লভ সরকার জানান, এরকম ঘটনার উদাহরণ তো সচরাচর দেখা যায় না। যেখানে চারিদিকে শিক্ষার এত অভাব, সেখানে এই সমস্ত উদাহরণ আমাদের জীবনকে নাড়িয়ে দেয়। উনি বলেন, 'ওঁকে আমার তরফ থেকে অনেক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা। তবে ওঁর পড়াশোনার জন্য উৎসাহিত করেছেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান উপাচার্য। সবার অনেক সহযোগীতা পেয়ে উনি সাফল্য পেয়েছেন।'
