
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে নয় বরং সৌরশক্তির প্রয়োগে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম জেনারেটর আবিস্কার করে ফেললেন বাঙালি গবেষক প্রীতম সাধুখাঁ। জীবাশ্ম জ্বালানি ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, পরিবেশের ওপর এর কুপ্রভাবও রয়েছে বহু। তাই এবার বিকল্প পথে হাঁটলেন প্রীতম সাধুখাঁ। সৌরশক্তিকেই আরও কার্যকরীভাবে ব্যবহারে সাহায্য করবে বাঙালি গবেষকের এই ক্ষুদ্র জেনারেটর। জেনারেটর বলতেই আমাদের মনের মধ্যে কল্পিত হয় এক বিশেষ যন্ত্র। যা থেকে অবিরাম নির্গত হতে থাকে কালো ধোঁয়া এবং এর সাথে কানে ভেসে আসে ভয়ানক শব্দ। তবে বাঙালি গবেষকের ক্ষুদ্রতম এই জেনারেটরের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এই জেনারেটর আসলে কোবাল্ট এবং গ্যালিয়াম দিয়ে তৈরি একটি মিশ্র ধাতব অণু। এর একটি বিশেষ ক্ষমতা হল, একাধারে এটি সৌরশক্তিকে শোষণ করে সেটিকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারে। শুধু তাই নয়, সেই অণুই আবার বিদ্যুৎশক্তিকে পরে ব্যবহারের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে পারে। সেই কারণে একে জেনারেটরের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এটি মহাকাশযানের জন্যও বিশেষ উপযোগী হবে।
প্রীতম জানিয়েছেন এই জেনারেটর আদতে রোবোটিক্স এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের জন্য ব্যাপকভাবে কার্যকরী। এটি ব্যবহার করলে রোবটের জন্য আর কোনো ভারী ব্যাটারির প্রয়োজন হবে না। সূর্যালোককে কাজে লাগিয়েই নিজেকে পরিচালনা করতে পারবে এই রোবটটি।
ফলে সেটির কার্যকরিতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘ সময় ধরে কর্মক্ষম থাকতে পারবে স্বয়ংসম্পূর্ণ মহাকাশযানটি। তবে এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে, চলতি সৌরকোষ ব্যবহার করেও এসব সম্ভব, সেক্ষেত্র নয়া আণবিক জেনারেটরের গুরুত্ব কোথায়? এখানেই লুকিয়ে রয়েছে এর বিশেষ গুণ। চলতি সিলিকন ভিত্তিক সৌরকোষের চেয়ে এটি কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী। শুধু তাই নয়, সূর্যের আলোক এবং তাপশক্তি, দু’টিকেই বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারে এটি। এই গবেষণার জন্য আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি এবং ব্রিটেনের রয়্যাল সোসাইটি অর্থ ঢেলেছিল।
এমনকি জাপানের কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষকের কাজ গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছে বিশ্ববিখ্যাত জার্নাল নেচার কমিউনিকেশনসও। তবে, প্রীতম একা নন, তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন দেশের গবেষকরাও। তবে, মুখ্য গবেষক হিসেবে কৃতিত্বের দাবি করতেই পারেন এই বাঙালি তরুণ।
