
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক; ভুল-ত্রুটি নিয়েই মানুষের জীবন। চলার পথে কেউই নিখুঁত নন, অথচ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই চাই একেবারে ‘পারফেক্ট’ একজন মানুষকে। বাস্তবে দেখা যায়, সঙ্গীর ছোটখাটো দোষ নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণই বহু সম্পর্ক ভাঙার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কথায় কথায় তর্ক, মান-অভিমান আর দিনভর অশান্তি— এই চক্রে পড়ে সম্পর্ক ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে ওঠে।
অনেকেই ভাবেন, সঠিক মানুষটি এখনো পাওয়া হয়নি। তাই এক সম্পর্ক ভেঙে আরেক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু মনোবিদদের মতে, সমস্যার মূল বেশির ভাগ সময়েই লুকিয়ে থাকে নিজের আচরণে। নিজের মধ্যে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনতে পারলেই অনেক সম্পর্কই নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম প্রয়োজন অতিরিক্ত প্রত্যাশা কমানো। সঙ্গীও একজন মানুষ— তাঁর ভুল হতেই পারে। প্রতিটি বিষয়ে নিখুঁত আচরণ আশা করলে হতাশা অবশ্যম্ভাবী। পাশাপাশি তুলনা করার অভ্যাস ত্যাগ করাও জরুরি। অন্যের সম্পর্কের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের তুলনা করলে অশান্তি বাড়ে বই কমে না।
চলুন জেনে নিই পারফেক্ট রিলেশনের কয়েকটি টিপস্ -
১. মাথায় রাখবেন সব তর্কে যে আপনাকে জিততেই হবে তা কিন্তু নয়। যুগলের মধ্যে লড়াইয়ে একজন জিতে যাওয়া মানে আদতে সম্পর্কের হেরে যাওয়া। সঙ্গী ভুল, আপনি ঠিক এটা প্রমাণের চেষ্টা না করে কী বলতে চাইছেন তা বুঝিয়ে বলুন। মাথায় রাখবেন, আপনার আচরণে যেন কোনওভাবেই সঙ্গী অপমানিত বোধ না করে।
২. অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সঙ্গী না বলা কথা বুঝবে এই আশা করেন সকলে। আর তা না বুঝতে পারলেই সমস্যা শুরু। এই ধারণাটা থেকে বেরিয়ে আসুন। না বলা কথা বুঝে নিলে তা ভালো, কিন্তু বুঝতে না পারলেও তা কিন্তু অপরাধ নয়। বরং সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা ভাবে কথা বলুন। তাঁকে জানান, কী চাইছেন।
৩. সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যায়। প্রথম দিকে সঙ্গীর সঙ্গে প্রতিমুহূর্ত জুড়ে থাকে সকলেই। প্রতিমুহূর্তে ফোন, টেক্সট করলেই সঙ্গে সঙ্গে মেলে উত্তর। একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, ডিনার-এসব চলতেই থাকে। কিন্তু একটা সময়ের পর ব্যস্ততার কারণে একইভাবে এফোর্ট দিতে পারে না কেউই। আর এতেই চিড় ধরে সম্পর্কে। চেষ্টা করুন সম্পর্কের বয়স বাড়লেও ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে স্পেশাল করে তোলার।
৪. ভুলেও সঙ্গীর সঙ্গে কারও তুলনা টানবেন না। মনে রাখবেন প্রতিটা সম্পর্কই প্রতিটির থেকে আলাদা। নিজেদের সুন্দর মুহূর্তগুলোকে উদযাপন করুন।
৫. মতবিরোধ ভীষণ স্বাভাবিক বিষয়। যে কোনও ইস্যুতেই মতানৈক্য তৈরি হতে পারে। কিন্তু তা যেন অসম্মানের পর্যায়ে না পৌঁছয়। জেনেশুনে সঙ্গীকে আঘাত করবেন না। ভুল করে ফেললে ক্ষমা চেয়ে নিন।
৬. ভালোবাসা মানে একটা দায়িত্ব। একজনের নির্ভরতা কাঁধ। ভালো দিনে না থাকলেও তাঁর খারাপ সময়ে অবশ্যই পাশে থাকুন। বেঁধে বেঁধে থাকুন।
