
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বিশ্বভারতীর উপাচার্য পদ থেকে অবসর নিলেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। নতুন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হলেন সঞ্জয় মল্লিক। বিশ্বভারতীয় উপাচার্য থাকাকালীন তাঁর বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে ঘিরে অনেক সময়ই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এমনকী সম্প্রতি ইউনেস্কো বিশ্বভারতীকে হেরিটেজ তকমা দেওয়ার পরে ফলকে তাঁর এবং আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম থাকলেও, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম না থাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর তথা বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সমালোচনায় সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ব্যাপারে বিশ্বভারতীকে বার্তা দিতে দেখা যায় রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকেও।
এখানেই শেষ নয় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সঙ্গেও বিবাদে জড়ান তিনি। নোবেলজয়ীর বাড়ি সম্পর্কে বিশ্বভারতীর দাবি ছিল, অমর্ত্য সেনের বাড়িতে ১৩ ডেসিমেল জমি ঢুকে, যা বিশ্বভারতীর। প্রতিষ্ঠানের তরফে আরও দাবি করা হয়, বাড়ির জমির একটা অংশ বিশ্বভারতীর থেকে লিজ নেওয়া, কিছুটা জমি কেনা। শীঘ্রই সেই ১৩ ডেসিমেল জমি বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দেওয়ার কথাও বলা হয়। সেই মর্মে নোটিশও দেয় বিশ্বভারতী। সেই সময় সংবাদমাধ্যমে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী দাবি করেন, কাগজ অনুযায়ী কিছু জমি বেশি নিয়েছেন অমর্ত্য সেন। যে জমিটা অমর্ত্য সেনের পাওয়ার কথা ছিল, তার থেকে কিছু বেশি জমি তাঁরা আয়ত্তে রয়েছে। যদিও বিশ্বভারতীর এই দাবি একেবারেই মনাতে নারাজ অমর্ত্য সেন। সেই ইস্যুতে অমর্ত্য সেনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উপাচার্য থাকাকালীন বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বেশকিছু সিদ্ধান্তকে ঘিরে পড়ুয়াদের সঙ্গেও মতভেদ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনে নামেন বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা। এমনকী উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি, তাঁকে ঘেরাও করেও দেখান হয় বিক্ষোভ। এছাড়া জেলার বিজেপি নেতা অনুপম হাজরাকেও সরব হতে দেখা গিয়েছে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে।
