
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ সিপিএমের প্রয়াত প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাসের হাতে তৈরি করা দলীয় লের মুখপত্রের টিমকে ভেঙে দিলেন পার্টির বর্তমান রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। শমীক লাহিড়ীকে সম্পাদকের পদে বসানোর ঘটনায় দলের অন্দরেই ক্ষোভ তৈরী হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সদ্য শেষ হওয়া পার্টির রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন থেকেই প্রভাতী দৈনিক মুখপত্রের সম্পাদক বদল করেছে বঙ্গ সিপিএম। পার্টির মুখপত্র ‘গণশক্তি’র সম্পাদক শমীক লাহিড়ীকে করে বতর্মান সম্পাদক দেবাশিস চক্রবর্তীকে ‘জ্যোতি বসু স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর এর পরই সিপিএমের মুখপত্রের সম্পাদক বদল নিয়ে একাধিক প্রশ্ন, ক্ষোভ দানা বেঁধেছে পার্টির অভ্যন্তরে।
‘গণশক্তি’র এই টিম প্রয়াত অনিল বিশ্বাসের নিজে হাতে তৈরি করা। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিক, বামপন্থী ঘরানার সাংবাদিক অনিল বিশ্বাসই তৈরি করেছিলেন। একটা সময়ে অনিল বিশ্বাস রাজ্য সম্পাদক হয়ে গেলেও তিনিই নজর রাখতেন ‘গণশক্তি’ পত্রিকার কাজকর্মে। পরে সেখানে সম্পাদক হন নারায়ণ দত্ত। নারায়ণ দত্তর পর সম্পাদক হন অভীক দত্ত। তিনিও অনিল বিশ্বাসের হাতে তৈরি। অভীক দত্তর অকাল প্রয়াণের পর ‘গণশক্তি’র সম্পাদক হন দেবাশিস চক্রবর্তী। অত্যন্ত দক্ষ তাত্ত্বিক নেতা দেবাশিসবাবু। জেলায় জেলায় পার্টি ক্লাসগুলো একটা সময় দেবাশিস চক্রবর্তীকে দিয়ে করানো হত।
উল্লেখ্য,অনিল বিশ্বাস যে একটা আলাদা ঘরানা তৈরি করে দিয়েছিলেন সেই তৈরি টিমকে ভেঙে দিয়ে শমীক লাহিড়ীকে গণশক্তির সম্পাদক পদে বসানো হল। আর এখানেই প্রশ্ন, যদি সম্পাদক বদল করতেই হত তাহলে সেই পদে দুজন যোগ্য লোক ছিলেন। অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী (সিনিয়র) ও অতনু সাহা। অতনু সাহা এখন ‘গণশক্তি’র সহকারী সম্পাদক। উল্লেখ্য, নারায়ণ দত্ত যখন সম্পাদক ছিলেন তখন সহকারী ছিলেন অভীক দত্ত। নারায়ণ দত্তর পর অভীক দত্তই সম্পাদক হয়েছিলেন। তাহলে এক্ষেত্রে অতনু সাহাকে কেন সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হল না? পার্টির একাংশ মনে করছে, এক্ষেত্রে অতনু সাহাকে কার্যত অপমানই করা হল। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই গণশক্তির যাঁরা হোলটাইমার – কর্মী এবং সাংবাদিক, তাঁদের সঙ্গে সেলিম শিবিরের কিছু কিছু বিষয় মতপার্থক্যের খবর ছিটকে বেরচ্ছিল। এবার পুরোদস্তুর সেই টিমটাকেই কার্যত অস্বীকার করা হল বলে মনে করছে পার্টির অনেক রাজ্য নেতাই। দেবাশিস চক্রবর্তীকে পাঠানো হয়েছে সেই নিউটাউনে নির্মীয়মাণ ‘জ্যোতি বসু স্টাডি সেন্টারে’র দায়িত্বে।
শমীক লাহিড়ী অতীতে পার্টির ছাত্র সংগঠনের পত্রিকা ছাত্র সংগ্রামের সম্পাদকের ভূমিকা পালন করলেও মূল সাংবাদিকতার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক ছিল না। গণশক্তির সঙ্গেও তাঁর কোনও সম্পর্ক ছিল না।পার্টিকে ক্ষমতায় রাখা এবং তারপর পার্টি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কঠিন দিনে দাঁতে দাঁত চেপে যে লড়াইটা গণশক্তি দিয়েছে তাতে শমীক লাহিড়ী কোনওভাবেই যুক্ত ছিলেন না।সেক্ষেত্রে শমীক লাহিড়ী সম্পাদক হিসাবে কতটা ভাল কাজ করবেন তা নিয়ে ইতি মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।
