
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ এসএসসি নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত মামলার শুনানি দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি, এই সংক্রান্ত সমস্ত মামলার শুনানি এবার হাইকোর্টে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
এই মামলাগুলির শুনানিতে ক্রমাগত দেরি হচ্ছে বলে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন মামলাকারীরা। সম্প্রতি আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চকে অনুরোধ করেন, শুনানি যেন আর না পিছোনো হয়। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার এই মামলা সংক্রান্ত শুনানি হয় শীর্ষ আদালতে। সেখানেই সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেয় মামলাগুলি হাই কোর্টে ফোরানোর। তবে একই সঙ্গে এই মামলার তদন্তকারী কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও তদন্তের ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে তারা। বেঞ্চ বলেছে, সিবিআইকে এই তদন্ত শেষ করতে হবে দু’মাসের মধ্যে।
এসএসসি বা স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির সহকারী শিক্ষকের নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে অনেকগুলি মামলা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। এর মধ্যে নিয়োগে অনিয়মের পাশাপাশি ওএমআর শিট প্রকাশ-সহ নানা বিষয়ে মামলা করা হয়েছে। দুর্নীতি সংক্রান্ত ওই মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট যে চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল, তাতেও স্থগিতাদেশ দেয় শীর্ষ আদালত। তারা জানিয়েছিল, সবক’টি মামলা আলাদা করে শুনানি হবে। যদিও কার্যক্ষেত্রে তা হয়নি। প্রতিবারই শুনানি পিছিয়ে যেতে থাকে নতুন নতুন তারিখে। বৃহস্পতিবার সেই মামলারই শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু এবং বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদীর বেঞ্চে।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত সমস্ত মামলা কলকাতা হাই কোর্টে পাঠিয়ে দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের কাছে এই মামলা যাবে। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করবেন। ওই বেঞ্চই মামলাগুলির শুনানি করবে। চাকরি থেকে বরখাস্ত, নতুন চাকরির সুপারিশ নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সেই শুনানি ডিভিশন বেঞ্চকে শেষ করতে হবে ছ’মাসের মধ্যে।
অন্য দিকে, এসএসসি মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআইকে বিশেষ নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, তাদেরও এই সমস্ত মামলা সংক্রান্ত তদন্ত দু’মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, এসএসসি সংক্রান্ত অনেকগুলি মামলা চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। এই নিয়ে এর আগে একবার বিরক্তিও প্রকাশ করেছিল বিচারপতি বোস এবং বিচারপতি ত্রিবেদীর বেঞ্চ। বিচারপতিদ্বয় বলেছিলেন, ‘‘২০১৪, ২০১৬, ২০১৭ সাল-সহ বিভিন্ন বছরের আলাদা আলাদা বিষয় নিয়ে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। এতগুলি মামলার মধ্যে কোনটা আগে শুনব?’’
গত অক্টোবরে ওই মামলার শুনানি ছিল। সেখানে মামলাটির শুনানি যাতে আর না পিছিয়ে যায়, তার আর্জি জানিয়েছিলেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন। শেষে বৃহস্পতিবার মামলাটি আবার শুনানির জন্য ওঠে দুই বিচারপতির বেঞ্চে। তাঁরা মামলাগুলির শুনানি কলকাতা হাই কোর্টে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেন।
