
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ রাণাঘাটের সেনকো গোল্ডের ডাকাতির ঘটনায় এক অভিযুক্তকে গ্রেফতারির পর সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাস ছয়েক আগে শক্তিগড়ে ফিল্মি কায়দায় কয়লা মাফিয়াকে খুনের ঘটনায় জড়িত এই অভিযুক্ত। ধৃতের নাম কুন্দন। এতদিন তাঁর সন্ধানেই খোঁজ চালাচ্ছিল পুলিশ।
রানাঘাটের চাবি গেটে অবস্থিত সেনকো গোল্ডের শাখায় মঙ্গলবার দুপুরে হয় দুঃসাহসিক ডাকাতি। ৯-১০ জন ডাকাতের দল আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে লুঠপাট চালায়। ঘটনার পর দুষ্কৃতিদের ধাওয়া করে তখনই চারজনকে ধরে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তদের মুখ দেখে সেদিনই রাতে গ্রেফতার করা হয় আরও একজনকে। পরে এদিন ডাকাতির অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কুন্দনকে গ্রেফতারের পরই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। কয়লা মাফিয়া রাজু ঝাঁ খুনে যুক্ত এই কুন্দন। পুলিশের দাবি, ওই খুনে শার্প শ্যুটার ছিলেন কুন্দন।
গত ১ এপ্রিল শনিবার রাত ৮টা নাগাদ শক্তিগড়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি ল্যাংচার দোকানের সামনে খুন করা হয়েছিল রাজুকে। একটি সাদা ফরচুনার গাড়ির চালকের বাঁ পাশের আসনে বসেছিলেন তিনি। এ ছাড়া গাড়িতে ছিলেন তাঁর সহযোগী ব্রতীন মুখোপাধ্যায় এবং আব্দুল লতিফ নামে বীরভূমের দুই ব্যবসায়ী। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আচমকা একটি গাড়ি থেকে তিন জন নেমে রাজুর গাড়িটি ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই ম়ৃত্যু হয় তাঁর। সেই ঘটনার পর হত্যাকারীকে খুঁজছিল পুলিশ। রাজুকে খুনের পর থেকেই পলাতক ছিলেন কুন্দন। চার মাস পর রাজু খুনের মূল চক্রী কুন্দন ধরা পড়লেন ডাকাতির ঘটনায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, রানাঘাটের ডাকাতির ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রাজু পাসোয়ান, রিক্কি পাসোয়ান এবং মণিকান্ত যাদবের বাড়ি বিহারের বৈশালীতে। কুন্দনের হাত ধরেই এই তিন জনের অপরাধ জগতে প্রবেশ। পুলিশ আরও জানিয়েছে, রাজু এবং রিক্কিকে ‘শার্প শুটার’ হিসাবে নিয়োগ করছিলেন এই কুন্দনই।
ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, ‘সুপারি কিলার’দের সিন্ডিকেট চালাতেন কুন্দন। তাঁর সেই সিন্ডিকেটের জাল পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল, ঝাড়খণ্ড, বিহার, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তীসগঢ়েও বিস্তৃত রয়েছে। খুন, ডাকাতি-সহ বিভিন্ন অপরাধের চুক্তি নিতেন কুন্দন। তার পর সেই চুক্তি অনুযায়ী দুষ্কৃতীদের জোগাড় করে এক জায়গায় জড়ো করে সেই সব ‘অ্যাসাইনমেন্টে’ পাঠাতেন।পুলিশ জানিয়েছে, আসানসোল ছাড়াও এ রাজ্যে আরও তিনটি সিন্ডিকেট রয়েছে কুন্দনের। সেই মডিউল কোথায় কোথায় সক্রিয় তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রানাঘাট পুলিশ জেলা সুপার কে কান্নন বলেন, “ধৃতদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বেশ কিছু সূত্র পাওয়া গিয়েছে, যেগুলি এই ডাকাতি ছাড়াও অন্য ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তবে তদন্তের স্বার্থে সব প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়।”
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশের একটি ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কুন্দন। সেই ঘটনায় মধ্যপ্রদেশ পুলিশের একটি দল ইতিমধ্যেই রানাঘাটে এসে পৌঁছেছে। এ ছাড়াও ২০২১ সালে আসানসোলে একটি খুনের সুপারি নিয়েছিলেন কুন্দন। আসানসোলে আরও দু’টি ডাকাতির ঘটনার সঙ্গেও কুন্দনের জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।
